আবদুল হাসিব এর একগুচ্ছ স্বাধীনতার কবিতা

Share Button

FINAL IMAGE 03
আমি স্বাধীনতা আসতে দেখেছি

আমি স্বাধীনতা আসতে দেখেছি।
নয়টি মাস ব্যাপী গিরি নদী দুর্গম পথে
ম্লান বিষন্ন বেশে রক্তাক্ত মূর্তিতে ব্যথিত পায়ে
সে দিন আমি স্বাধীনতাকে আসতে দেখেছি।

নয় বছরের বালক ছিলাম
স্মৃতিতে ধারণকৃত অভিজ্ঞান থেকে এখনও
বুকের ভিতর আতঙ্কের ভয়ঙ্কর চিৎকার উঠে
ধর্ষিতা আর শিশুদের আর্তনাদ কানে ভাসে!
বাতাস বিষাক্ত করা কান্নার ভিতর দিয়ে
সে দিন আমি স্বাধীনতাকে আসতে দেখেছি।

কবরের পাশে ভয়ে ভুলেও যাইনি কোন দিন
অথচ, নয়টি মাস দিনে ও রাতে অগণিত গিয়েছি
ভাঙা কবরের অন্ধ গর্তে আশ্রয় নিয়েছি
পশ্চিমা পশুদের গুলির শব্দে অথবা ধেয়ে আসছে শুনে!
এমন অন্ধকারের পথ দিয়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত
সে দিন আমি স্বাধীনতাকে আসতে দেখেছি।

ষোড়সী মনিরা’র অসহায় ভয়ার্ত আর্তনাদ
বনের বুক বিদীর্ণ করে আকাশে বাতাসে
মেঘে মেঘে অসহায় কেঁদে ফিরেছে সেদিন!
কান্নার সেই ধ্বণি শুনে শুনে বজ্রহুঙ্কারে দীপ্ত পায়ে
সে দিন আমি স্বাধীনতাকে আসতে দেখেছি।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কর্মরত বাবা’র জন্যে কঠিন ভাবনা
কখন কোন রাজাকার সনাক্ত করে দেয়
পুড়িয়ে দেয় ঘর-বাড়ি নয়তো চলে যাই
আকস্মাৎ গুলির তলে! লক্ষীন্দরের যন্ত্রণার মতো
মুহুর্ত গুলো যখন বজ্রাঘাত করছিল
ঠিক সেই সময় আমার ভাইয়ের
বুকের লাল আতপ্ত রক্ত মেখে
সে দিন আমি স্বাধীনতাকে আসতে দেখেছি।

 

মুক্তিযোদ্ধাকে দেখবো
( বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকুল হোসেন ফণী শ্রদ্ধাভাজনেষু )

তীব্র প্রতিক্ষার প্রবাহিত সময় বড়ই কষ্টকর
তবু প্রতিক্ষায় থাকবো, যোদ্ধাকে দেখবার জন্য।
শুনেছি একাত্তরে তাঁর রক্তে তুফান উঠেছিল
তিতুমীর সূর্যসেন ছালাম রফিক বরকত
ও জব্বারদের রক্ত কণিকা আগুন হয়ে জ্বলে উঠে ছিল,
মাতৃমৃত্তিকার মুক্তির লক্ষ্যে আগ্নেয়গিরি হয়েছিল সত্তা।
রক্তাক্ত লাশ দর্শনে আর দর্শিতাদের চিৎকারে
জীবন বাজি রেখে যিনি অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন,
আমি প্রতিক্ষারত সেই মুক্তি যুদ্ধাকে দেখবার জন্যে।

শুনেছি তিনি একাত্তরের সাহসী সম্মুখ যোদ্ধা,
রক্তাক্ত পায়ে অতিক্রান্ত করেছেন গিরি প্রান্তর,
দেখেছেন স্বাধীনতাকামী অগণিত মানুষের লাশ,
অক্লান্ত যুদ্ধ শেষে এনেছেন বিজয়ের পতাকা;
আমি প্রহর কাটাচ্ছি এই সেই মুক্তিযোদ্ধাকে দেখবো বলে
গায়ে যার এখনও বারুদের তাজা গন্ধ লেগে আছে।
মূর্ত স্বাধীনতা

আমার চোখে যে স্বাধীনতা জ্বলে
সে স্বাধীনতা আমার সহযোদ্ধা অমরের
বুকের উষ্ণ রক্তে রঞ্জিত
সবুজ ঘাসের আগুন শরীর।

আমার চোখে যে স্বাধীনতা জ্বলে
সে স্বাধীনতা মুক্তি যুদ্ধে যাবার অপরাধে
আমার সাত বছরের শিশুর
ব্যায়নেটবিদ্ধ রক্তস্নাত আড়ষ্ট শরীর।

আমার চোখে যে স্বাধীনতা জ্বলে
সে স্বাধীনতা আমার প্রিয়তমা স্ত্রী’র
পাশবিক অত্যাচারের শিকার
ধুলায় লুন্ঠিত বিবস্ত্র শরীর।

আমার চোখে যে স্বাধীনতা জ্বলে
সে স্বাধীনতা আমার বাবা’র ভিটায়
একমাত্র মাথা গোজাবার ঠাঁই
দু’চালা ঘরের ভস্মীভূত ছাই।

নিশিতের খুলা জানালা

সারা দিন জানালাটি বন্ধ থাকে;
খুলা থাকলে তরুণ ছেলেদের
হাঁটতে দেখে বুকে প্রচন্ড কষ্ট হয়।

সন্ধ্যায় পৃথিবীর গাঁ গুলো
আধারে ডুবে যায় যখন
জানালার কপাট খুলা হয় তখন,
মায়ের প্রতিক্ষিত চোখ দৃষ্টির সীমানায়
অপলক ব্যাকুল অধীর
যদি বা তার ছেলে উঠে আসে ঐ পথে!

বুকের ভিতর আর্তনাদ
চোখের পাতায় টলমলে জল
ঝাপসা ছোখে ভেসে উঠে ছেলের অগণিত স্মৃতি!
রাতের অন্ধকার বিদীর্ণ করে
পূর্বাচলে উঠে চাঁদ মাটির মায়ায়
উদ্ভাসিত আলোয় ভরে যায় রাতের
মায়াবী শরীর আর খুলা জানালাটি ।

অসহ্য যন্ত্রণাময় তীব্র প্রতিক্ষিত রাত
শেষান্তে বয়বৃদ্ধ হয় যখন,
পুত্র শোকাবিভুত মায়ের কান্না
রাতের স্তব্ধতাকে মুখরিত করে দেয় তখন;
অশান্ত সমুদ্রসম অস্থির সেই মা
অভিশ্রান্ত কাঁদে আর তার কন্ঠে কষ্টের ভিতর
উচ্চারিত হয়,
সেই যে একাত্তোরে সাতই মার্চের মধ্য দুপুরে
এহান পুরুষটির উদার্ত আহ্বানে
আমার ছেলেটি গেল ঘর থেকে চলে
আর এলো; না, এখনও এলো না!

পশ্চিম দিগন্ত চুমে অস্ত গেল
কত আরক্তিম সূর্য; কত পূর্ণিমার চাঁদ,
স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী দোয়ারে এলো
অতচ, আমার ছেলেটি বুকে এলো না!

কত মানুষ কত ভাবে স্বাধীনতার নিল সাধ
কেবল আমারই জন্যে -হে স্বাধীনতা
রয়ে গেলে নির্মম বিষাদ; রয়ে গেলে
নিশিতের খুলা জানালায় পথ চেয়ে থাকা!
স্বাধীনতা জ্বল জ্বল করে উঠেছিল

ছাব্বিশে মার্চের কালো রাত
স্তব্ধতার বুক বিদীর্ণ মানুষের ভয়ার্ত আর্তনাদ!
অলিতে গলিতে অগণিত লাশ
পিচঢালা কালো পথে রক্তেস্রোত
ধর্ষিতার কন্ঠছিড়ে আসা অসহায় চিৎকার
মা-বোনদের ক্ষত-বিক্ষত বিবস্ত্র শরীর
আর কঁচি শিশুর ব্যানেট বিদ্ধ নগ্ন বুক থেকে
তপ্ত রক্ত যখন ঝরছে
ঠিক তখনই সেই রক্ত ছুঁয়ে
মাতৃমৃত্তিকার পবিত্রতা রক্ষা আর
প্রিয় প্রত্যাশিত স্বাধীনতা আনবার জন্যে
সে দিন হিমাদ্্ির কঠিন প্রতিজ্ঞা ছিল আমাদের।

সূর্যসেন, তিতোমীর, সালাম, রফিক,
বরকত আর জব্বারের রক্তের অস্থিত্ব
সে দিন আগ্নেয়গিরির অগ্নোৎপাতের মতই
জ্বলে জ্বলে উঠে ছিল বাঙালী সত্তায়।
আমাদের সর্বস্ব নিয়ে মত্ত-মাদল রোষে
শত্রু নিধনে পাগল ছিলাম কাল-বৈশাখী বেগে।

জাতি ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে
দু’লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত হারানোর
করুণ কান্নায় বাংলার বাতাস ভারি করে
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে তেরশো নদী প্লাবিত করে
পেয়েছিলাম আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা;
আমরা পেয়েছিলাম রক্তমাখা প্রাণের প্রিয় পতাকা।
বিজয়ের উচ্ছ্বসিত আনন্দের উর্মিমালা
সে দিন বাঙ্গালীর অস্তিত্বে
উন্মাতাল হয়েছিল অসম্ভব বিস্ময়কর শক্তিতে।

বিধবা বধুদের চোখের জল
সে দিন স্বাধীনতার সূর্য-রশ্মিতে হীরের টুকরোর মত
জ্বল জ্বল করছিল; স্বাধীনতাকে পেয়ে যেন তারা কিছুই হারায়নি।
সন্তানহারা মায়ের চোখ
জলে ভরে গেলেও জ্যোৎস্নায় হরিণের চোখের মত
ঝিক্মিক করে ওঠেছিলো
স্বাধীনতার মহানন্দে সে দিন।
তোমরা কি জানো
( তাসনুভা মিজান তমা’কে; যে একাত্তরকে জানতে চায় এবং কবিতা ভালোবাসে )

বাংলার নতুন প্রজন্ম আমার
তোমরা কি জানো,
পাখিদের কন্ঠেও আতঙ্কে গান থেমে গিয়েছিলো
বনের হরিণ আহার ছেড়ে কাঁদতে শুরু করেছিলো
কখন কেন কোথায়?
একাত্তরের নয়টি মাস
ধর্ষিতাদের ভয়ার্ত আর্তনাদে
গানের পাখির দেশে, এই রূপশ্রী বাংলায়!

বাংলার অরুণ তরুণ আমার
তোমরা কি জানো,
সর্ব কালের শ্রেষ্ট নৃশংস গনহত্যাযজ্ঞে
আদিমতাকে হার মানিয়ে ছিলো
কখন কারা কোথায়?
একাত্তরের নয়টি মাস
পশ্চিম পাকিস্তানিরা
সবুজ ঘাসের দেশে, এই শ্যামল বাংলায়!

বাংলার আশার প্রদীপ আমার
তোমরা কি জানো?
কোন দেশের তেরো’শ নদী
মানুষের বুকের রক্তে প্লাবিত করেছিলো
কখন কারা কোথায়?
একাত্তরের নয়টি মাস
বর্বর বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণে
সোনালী ধানের দেশে, এই সোনার বাংলায়।

বাংলার দামাল ছেলেরা আমার
তোমরা কি জানো?
ঘর বাড়ি নয় কেবল, মানুষকেও
পুড়িয়ে পুড়িয়ে মেরে উল্লাস করেছে
কখন কারা কোথায়?
একাত্তরের নয়টি মাস
মির্জাফরের উত্তরসূরী নিয়াজী টিক্কা আর তাদের দুসররা
লাল কৃষ্ণচূড়ার দেশে, ঐতিহাসিক এই রক্তাক্ত বাংলায়!

 

সময় বড়ো ভালো ছিলো

সময় বড়ো ভালো ছিলো তখন
যে সময় তোমরা রক্ত ঝরিয়ে ছিলে;
অসম্ভব উর্বরতা ছিলো
তেমাদের সেই লাল রক্তে,
প্রতিটি লৌহকণিকা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে
দীপ্র সৈনিক জন্মে ছিলো তখন।

সময় খুব ভালো ছিলো তখন
যে সময় তোমরা রক্ত ঝরিয়ে ছিলে;
মানুষে মানুষে ছিলো মমত্ববোধ বন্ধন
জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ছিলো অঢেল,
দেখছো না; তোঁমাদের রক্তে মাখানো বর্ণমালায়
সারাদেশ জুড়ে একচ্ছত্র ফসলের কী না আশ্চর্য সম্ভার!

সময় অবশ্যই ভালো ছিলো তখন
যে সময় তোমরা রক্ত ঝরিয়ে ছিলে;
আজকাল ব্যক্তিচরিত্রের অবিশ্বাস্য অবক্ষয়
গোটা জনসমষ্টি সঠিক নেতৃত্ববিহীন
জাতীয় অস্থিত্বে সত্ত্বা জ্বলে উঠতে দ্বিধা বিভক্তি
হাজার বছরের শ্রেষ্ট পুরুষটির অবদান প্রশ্নে
নির্লজ্জের মত আমরা আজ কন্ঠিত বিভক্ত।

আজ কোন সরকার
আমাদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাসকে
যতেœ সমুজ্জল রাখবার চেষ্টা করছেন,
কেউ বা বিপুল অর্থব্যয়ে অপছন্দনীয় নাম নয় শুধু
স্বাধীনতার ইতিহাসকে বদলে দেবার চক্রান্ত করছে।

আমাদের ভাই ও বোনেরা, তোমরা যারাই
রক্ত দিয়ে গেছো আমাদের জন্যে, প্রজন্মের জন্যে,
তোমরা সুনিশ্চিত থেকো, আমরা যারা
বাঙালী বেঁচে থাকবো যতদিন,
তোঁমাদের নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবেনা; কোন দিন না।
তোঁমাদের রক্তের দাম অপরিশোধিত; ঋণ স্বীকার্য্য।

প্রতিদিন বিকালের ছায়াহ্রদে
তোমাদের রক্তে রেখা আঁকে এই বাংলার দিগন্ত জুড়ে,
সায়াহ্ন শেষে রজনীর নিরন্দ্র আঁধার বিদীর্ণ করে
তোমরা তো জ্বলে উঠো উজ্জ্বল নক্ষত্রবীথি হয়ে
এই বাঙলার নির্মল নীলাভ অন্তরীক্ষে। ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০০২, অটোয়া, কানাডা
স্বাধীনতা শ্রাবণ

সকালের শেফালী কুড়ানো থেকে শুরু করে
দুপুরের চড়–ইভাতিতেই শুধু ছিলো না ওরা সাথী
লেখায় পড়ায় নৃত্যে সঙ্গীতে কী নির্মল প্রতিযোগিতা
বিশ্ব বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শ্রেষ্ট ছাত্র-ছাত্রী ওরা
ভোরের বাগানে মহুয়ার ডালে
ওরা ছিলো ভালোবাসার জোড় শান্ত কপোত।

পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতাপ্রাপ্ত দিন তারিখ ঠিকঠাক
অবয়ব জুড়ে সিগ্ধ ঝর্ণার ঝিকিমিকি হাসি
প্রাণের পরতে পরতে পূর্ণতার আভাস
হৃদয়ানুরাগে বধু সাজবে এইতো দু’টি দিন পরে
কম্পিত হাতে লাল শাড়িটাকে রাখা হলো বড় আদরে।

বিয়ের পূর্ব রাত্রি। পচিশ’শে মার্চের রাত।
সেই রক্তাক্ত ভয়ার্ত রাত!
পাতা-পতঙ্গের মত লাশ ঝরতে থাকলো স্বদেশের বুকে
তপ্ত রক্ত স্রোতে প্লাবিত হলো পথ-প্রান্তর
তিতুমীর সূর্যসেন সালাম রফিক বরকত জব্বার ওদের
অস্থিত জ্বলে জ্বলে উঠলো
হাজার দামাল ছেলের মত ‘মহান’ এর তারুণ্যেও
স্বদেশের পবিত্রতা রক্ষার্থে অগ্নিশিখা জ্বলে উঠলে
নিশিতের অন্ধকারে সেই যে গেলো চলে; আর এলোনা।

সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশে
‘মহান’ এর বন্ধু ফিরেছে মুক্তি যুদ্ধ শেষে,
শ্রাবণী সাক্ষাতে উন্মাদিনীর মত প্রশ্নে প্রশ্নে পাগল করে তুলে,
বলো না, জবাব দাও;
আমার ‘মহান’ কোথায়? বাড়ি আসছে কবে?
প্রস্থানোদ্ধত নিরুত্তর মুক্তি যুদ্ধার জামার আস্তিন ধরে
আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে চিৎকার দিয়ে উঠে
মহান কোথায় রেখে এসোছো, আমার ‘মহান’ ফিরিয়ে দাও-
ফিরিয়ে দাও – ফিরিয়ে দাও  !
কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটায়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে শ্রাবণী নিথর!
যোদ্ধার চোখে ছিলো তখন স্থীর -বন্ধুর রক্তাক্ত আড়ষ্ট শরীর!

একাত্তরের ইতিহাসে সমুজ্জ্বল থেকে গেল ‘মহান’
শ্রাবণীর চোখে হলো, শ্রাবণের করুণ নির্মাণ।
স্রষ্টার নির্মম নীতি
লাল শাড়িখান হলো, ‘স্বাধীনতা’ স্মৃতি।
পৃথিবীর কোন যুক্তি দিয়ে শ্রাবণীর জীবন গেলো না গড়া;
কাঙ্কিত মানুষটির স্মৃতি বুকে নিয়ে
শ্রাবণী রয়ে গেলো চির অনূঢ়া।
ছিলো কি এই অঙ্গীকার?

একাত্তরের রক্ত ব্যয়ে এই ছিলো কি অঙ্গীকার
স্বাধীন দেশে স্বৈর শাসন নিস্পেষণে বার বার?

গুলির সামনে বুকটা রেখে ছিলো কি এই অঙ্গীকার
শিক্ষাঙ্গন হয়েই যাবে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রাগার?

দেশ মাতার যোগ্য ছেলে কী ছিলো তোর অঙ্গীকার
ন্যায্য কথা বলতে গেলেই আলবদর কয় খবরদার?

সে দিন বোনের মাথায় ছুঁয়ে এই কি ছিলো অঙ্গীকার
রক্তে কেনা পতাকাটি চিন্তা চলবে বদলাবার?

সে দিন প্রিয়ার হাতটি ধরে ছিলো কি এই অঙ্গীকার
জাতীয় সঙ্গীত বদলে দিতে স্বোচ্ছার হবে রাজাকার?

 

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop