আমিরাতে সংহতি‘র অনুষ্ঠান ‘বিদ্রোহি’: সাম্যবাদ ধারণ করেই নজরুল বন্দনা

Share Button
  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

গান, কবিতা, ছড়া, নৃত্য, আলোচনা আর তাঁর সৃজনকর্ম ঘিরে প্রাণবন্ত আবহে অনুষ্ঠিত হল জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম নিবেদিত একটি মুগ্ধকর অনুষ্ঠান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবারের মতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে এইধারার ব্যতিক্রমি আয়োজন করেছে সংহতি সাহিত্য পরিষদ আমিরাত শাখা। অনুষ্ঠানটির নাম দেয়া হয়- ‘বিদ্রোহী।’

নজরুলের বিখ্যাত কবিতা, গান, কাব্যনাট্য ও কাব্যনৃত্য , প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম নজরুলের কবিতা পাঠে মন্ত্রমুখর করে রেখেছিলো পুরো অনুষ্ঠান। বলা যায়, শুক্রবার শারজাহ এর একটি রেঁস্তোরায় অনুষ্ঠানটি দর্শকদের জন্য ছিল অনন্য উপভোগ্য একটি দিন।

অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আব্দুস সবুর, অব. লেফ. কর্ণেল গুলশান আরা এবং বাচিকশিল্পী জি এম জায়গীরদার।

বিকলে ৫টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি যে শতভাগ বিদ্রোহী কবি নিবেদিত, তার ষোলকলা আবহ তৈরীতে মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠনের কর্মীরা। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে ঘিরে সৃজনশৈলীর ছাপ ছিল অনুষ্ঠানের সব দৃশ্যমান কাজে।

সংহতি সাহিত্য পরিষদ আরব আমিরাত শাখার সভাপতি লেখিকা মোস্তাকা মৌলা‘র সভাপতিত্বে প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি-সাংবাদিক লুৎফুর রহমান।

অনুষ্টানের আলোচক অধ্যাপক আব্দুস সবুর বলেন— কাজী নজরুল তাঁর সাহিত্য সাধনায় সাম্যবাদের জয়ধ্বনি শুনিয়ে গেছেন। বাঙালির ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। এ জন্য সে সময়ে তিনি ধর্মীয় রোষানলেও পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। সাম্যবাদের আলোয় তিনি বাঙালিকে পথ দেখিয়ে গেছেন। নজরুল সাম্যের প্রতীক হয়ে যুগে যুগে বেঁচে থাকবেন।

অব. লেফ. কর্ণেল গুলশান আরা বলেন-আমাদের সমাজে নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথ নিয়ে মাঝে মাঝে অসত্য কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়। অথচ রবীন্দ্রনাথ নিজের বই নজরুলকে উৎসর্গ করেছেন। নজরুল ‘আজ সৃষ্টিসুখের উল্লাসে’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের বসন্ত উৎসর্গের খবর পেয়ে লিখেছিলেন জেলে বসে। আবার নজরুল অনেকবার রবীন্দ্রনাথের ঘরে গিয়ে আড্ডায় উপস্থিত হয়েছেন। দুজনই ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লিখেছেন এবং মন ও মননে সোচ্ছার ছিলেন ।


অনুষ্ঠানে বাড়তি সৃজনআবহ তৈরী করে নৃত্যশীল্পি তিশার বিদ্রোহি এবং কাণ্ডারি হুশিয়ার কবিতায় নৃত্য। দর্শক বিমুগ্ধে নজরুলকে বোধে ধারণ করেছেন নৃত্যশিল্পী তিশার নান্দনিক নৃত্যশৈলীর মাঝে।

খুকি ও কাঠবিড়ালি ছড়ানাটিকা চমৎকার উপস্থাপনা করেন-সায়দা দিবা এবং জুয়েনা আক্তার রুনি।

সকালবেলার পাখি দলীয় আবৃতি ছিল আরেক মুগ্ধতাপূর্ণ পবিবেশনা। আবৃত্তি করেন লুৎফুর রহমান, তিশা সেন, জুয়েনা আক্তার রুনি ও শেখ তৌহিদুজ্জামান।

সায়দা দিবা ও আহমেদ ইফতিখার পাভেল আবৃত্তি করেন ‘অভিশাপ’ কবিতা । কুলিমজুর কবিতা পড়েন মায়মুনা আক্তার লিজা। বলা যায়, দর্শক তাদের আবৃত্তিতে ধারণ করেন আমাদের জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধামিশেল অনুভূতি নিয়ে।

তারপর কাইসার হামিদ পরিবেশন করেন চল চল চল রণসঙ্গীত।। এরপর জাবেদ আহম্মেদ মাসুম গান ‘মোর গানের মালা আমি করবো কারে দান…. । এরপর নওজিন স্বর্ণা দরদমাখা গলায় নজরুলগীতি করেন। বিমোহিত দর্শক নজরুল প্রেমে বিভোর ছিলো গানের সুরে।

অনুষ্টানে ছোট্ট বন্ধু মোহাইমিন রাহিন, আফিফ কায়কোবাদ, তাশফিয়া ফারিন এর ছড়াপাঠ দর্শকদের মন জয় করেছে করতালির মধ্য দিয়ে। পরবাসে প্রথম কোন অনুষ্ঠানে আসতে পেরেও তারা খুশি। তাদের মা বাবাও চান পরবাসে এমন অনুষ্ঠান নিয়মিত হোক।

‘মোর প্রিয় হবে এসো রানী’ ধরেন সাংবাদিক সিরাজুল হক। বঙ্গ শিমুল গেয়ে শুনান ‘মসজিদের ও ই কাছে আমার কবর দিও ভাই’।
নজরুল প্রিয় দর্শকদের তাঁদের প্রিয় গানে,ভালোবেসে, সরবে ও নিরবে কণ্ঠ মিলাতে দেখা গেছে! এরপরে দর্শক ও কন্ঠশিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গলা ছেড়ে ধরেন -‘‘ রমযানের ও ই রোযার শেষে এলো খুশির ঈদ।”


অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিঅনুরাগি রপশ্রী সেন ও বাংলা টিভির শেখ ফায়সাল সিদ্দিকী ববি।

লু্ৎফুর রহমানের পরিকল্পনায় চিত্রশীল্পি তিশা সেনের চিত্রকর্ম ও কারুকাজে পুরো অনুষ্ঠানের শিল্প সহযোগিতায় ছিলেন সংহতি আমিরাত শাখার নির্বাহি সদস্য আফজাল সাদেকিন, জাবেদ আহমদ, আমিনুল হক।

প্রসঙ্গত, ব্রিটেনে আশির দশকে যাত্রা করে সংহতি সাহিত্য পরিষদ। এর শাখা সংগঠন বাংলাদেশ, ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে। আরব আমিরাত শাখা বাংলাদেশ এবং বাঙালির শুদ্ধ সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। আগামিতেও তারা সৃজনশীল ও মৌলিক কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop