আল আইন জাবেল হাফিত : সুউচ্চ পর্বতের উপর থেকে

Share Button

jabel hafeet

লুৎফুর রহমান :
বাঙালিরা উৎসবমুখর আর ভ্রমণপ্রিয়। এতে দুনিয়ার যেখানেই থাকুক না কেন ভ্রমণ করেই মনের ক্ষিধে মিটায় অনেকে। সেই ধারাবাহিকতায় আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত মাসিক মুকুলের ভ্রমণ সংগঠন ‘পরবাসী পর্যটক’ গড়ে ওঠেছে।এ সংগঠনের মাধ্যমে ভ্রমণ পিয়াসু মন দেখে নিয়েছে পর্যটন নগরী দুবাইয়ের রূপ-মুখ। এবার আমাদের দেখার পালা আরব আমিরাতের ঐতিহ্যের শহর আল আইন। ঈদুল ফিতরের পরের শুক্রবার তারিখ নির্ধারিত হলো। পূর্ব পরিকল্পনা অনুয়ায়ি দেরা দুবাই থেকে গাড়ি নিয়ে এলেন মুকুলের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কবি আব্দুল আজিজ সেলিম, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খলিলুর রহমান খলু ও মুকুলপরিজন তুষার মুহিব। আর এদিকে সোনাপুরে আছি আমি মুকুল সম্পাদক লুৎফুর রহমান ও মুকুল পরিজন ভ্রমণ পাগল জাবেদ আহমদ এবং আমাদের ইউসুফ আলী মামা। এবার আমাদের দলে নেই মশকুর আহমদ, মায়নুল ইসলাম ময়ুর ও সালেহ আহাদ টিপু। ওদের ব্যস্ততার কারণেই ওদের সঙ্গ ছাড়াই চললো মিশন টু জাবেল হাফিত আল আইন।
rasta
ঘর হতে দু পা ফেলিয়া….
১৬ আগস্ট ২০১৩, দুবাইয়ের সোনাপুর এলাকা থেকে কাঁচা রোদে ঝিকিমিকি করা রাস্তায় আমাদের ছুটে চলা। উদ্দেশ্য প্রকৃতির মায়াবি চাদর বিছানো আল আইন শহরের জাবেল হাফিত। আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ পাহাড়ে। ছুটির দিন থাকায় রাস্তায় সুনশান নীরবতা। আমরা হাসি আড্ডায় মেতে ওঠছি। আমাদের গাড়ি উঠলো আমিরাত রোডে। আরব আমিরাতে সব কয়টি প্রদেশের সাথে যোগাযোগ করা রাস্তাকে ‘আমিরাত রোড’ বলা হয়। একে একে পিচঢালা পথের বুকে গাড়ি চলছে আর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠছি আমরা। দুবাই ছেড়ে আল আইন সীমানায় ঢুকে যাওয়ার আগেই গাড়িতে একটা বিপদ সংকেত। আমাদের পরিবহন পরিচালক হাসিব আলী ভাই মুখভরে পান খাচ্ছেন আর হাসি দিচ্ছেন। ঠিক তখনি গাড়ির মধ্যে একটা গরম বাতাস অনুভব করলেন। গাড়ি থামানো হলো। দেখা গেলো সেই সময়ের এই মিসির আলী টাইপের হাসিব আলী ভাই গাড়ির সামনে পানি ভরতে ভুলেই গেছেন। পানি ভরা হলো পাশে থাকা একটি মসজিদ থেকে। এখানে সবাই হাত মুখ ধুয়ে ওযুও করে নিলাম যাতে রাস্তায় জুম্মার নামাজটি পড়া যায়। গাড়িতেও ভাল করে পানি নিয়ে স্বভাবসুলভ হাসি আপনভোলা হাসিব ভায়ের। আমাদের গাড়ি যেখানে থামিয়েছিলাম একটি আরবী সাফিয়ার পাশে। আরবীতে গ্রামকে ‘সাফিয়া’ বলা হয়। তাই আরব গ্রামের মসজিদের স্থাপত্যশৈলী আমাদের ১০ জোড়া চোখ জুড়িয়ে যায়। পানি ভরার পরও হাসিব ভায়ের গাড়ি যেন ঠিক হচ্ছেনা। পাশে মরুভুমির মাঝে একটি বাঙালি গ্যারেজ খোলা পেলাম। আমরা হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। চট্টগ্রামের অধিবাসীরা এখানে কাজ করেন। আমাদের দেখতেই গাড়ির পানির নলটি বদলিয়ে দিলেন। আমার নিশ্চিন্তে চলতে শুরু করলাম আল আইনের পথে।
pahar churay

মধ্য পথে ঠেকলো গাড়ি, উপায় কি আর বলো না, গাড়ি চলেনা….
আল আইনের পথ ধরে যাচ্ছি। হঠাৎ হাসিব ভায়ের আকুতি পেট্টোল শেষ। আকাশ ভেঙে মাথায় পড়লো। রেগে উঠলেন সেলিম ভাই। কিন্তু হাসিব ভায়ের সহজ- সরল জবাব ভাবছি রাস্তায় পাম্প থেকে নিয়ে যাবো কিন্তু আড্ডায় উঠে ভুলে গেছি। ঠিক তখনি মনে পড়ছিলো বাঙলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মো. জামিউল আহমেদ ভায়ের নির্দেশনা। দেশে থাকতে ঢাকায় গেলেই উনি একটি কথা বলতেন ভ্রমণে- গাইড, পরিবহন আর সরঞ্জাম মেইন। যাই হোক শাহ আবদুল করিমের গাড়ি চলেনা গানটি ধরে সবাই ধাক্কা মারতে লাগলাম। আমরা পিছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছি কিন্তু হাসিব ভাই ড্রাইভিং সীটে না বসে উনিও নেমে স্ট্রারিং ধরে ধাক্কাচ্ছেন। আবার হাসলাম সবাই। আসলেই হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলী চরিত্রের সাথে এ বেচারার এতে মিল। হাসিব ভাইর বিবেকে বাঁধছে এই যে, উনার কারণে আমাদের আনন্দ মাটি হচ্ছে তাই নিজেই অনুতপ্ত হয়ে গাড়িতে বসছেন না। আবার না বসার কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণহীন হলে আরো বিপদ বলতেই উঠলেন। গাড়ি থামলেন নির্জন রাস্তার পাশে। রাস্তায় হাত বাড়িয়ে সাহায্যের জন্যে সিগনাল দিলে একটি প্রাইভেট কার দাঁড়ালো। এই বিপদের সময় বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দিলো। নিজের পরিবারসহ কোথাও যাচ্ছিলেন ভারতীয় কেরেলা প্রদেশের ওই ভদ্রলোক। কিন্তু হাসিব ভায়ের বিপদ শুনে পিক আপ করতে রাজি হলেন। আর দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার পথ নিয়ে গেলেন পেট্টোল আনতে। এই সুযোগে আমরা গাড়ির ভেতর না পারছি বসতে। আবার বাইরে। দু জায়গায় ৪৫ ডিগ্রীর উপর গরম। খলু চাচার একি কথা আজকের যাত্রায় পদে পদে বাঁধা চলো ফিরে যাই। আমি আর সেলিম ভাই নাচোড়বান্দা। শেষ দেখে ছাড়বো। আমাদের সাথে একমত জাবেদ ভাই ও তুষার ভায়ের। এবার সবাইকে বললাম-দেখো পাশের জাউবনের মতো কি যেন লাগছে। দেখতে একটা ইক্যু ট্যুরিজম। সাহস করে বনটার ভেতরে ঢুকলাম। সবার ক্লান্তি আর হতাশা দূর করতে যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখো তাই টাইপের চালাকি আমার। ভেতরে ঢুকবলাম আমি খলু চাচা জাবেদ ও তুষার ভাই। ওয়াও! কি অপরূপ, রূপ গো তোমার পথের ধারেই আছো। ভেতরে ঢুকে দেখি এলাহি কাণ্ড। দুই পাশে সারি সারি গাছ মধ্য খানে আমাদের দেশের মতো বালু আর পিছনে তারের বেড়া দিয়ে বিশাল মরুভূমির ধু ধু করা প্রান্তর। ছবি তুলা হচ্ছে আমাদের। কেমন একটা এডভেঞ্চার লাগছিলো আমি সবাইকে বল্লাম এই জায়গাটা দেখার জন্যেই বোধ হয় আমাদের গাড়ির এখানে তেল শেষ হলো। না হয় খোদার সুন্দর সৃষ্টি দেখা থেকে বঞ্চিত হতাম। তাও মরুভুমির দেশে পাঁচমিশেলী প্রাকৃতিক রূপমাধুরী। বনের পাশে ছবি তুলছিলাম আর আমাদের সিলেটের ইক্যু ট্যুরিজমগুলোর কথা মনে পড়ছিলো। অবশেষে তারুণ্যর কাছে সব হার মানে। তাই আইনও ভয় না করে তারের বেড়ার উপর লাফিয়ে ঢুকে গেলাম ঝিকিমিঝি সোনারোদে খেলা করা মরুভূমির বুকে। আমি জাবেদ আর তুষার এলোপাতাডিড় ছবি উঠাচ্ছি। তারের বেড়ার মধ্যে ঢুকা নিষেধ। কেউ দেখলে জরিমানা দিতো হতো। তার উপর বাঙালি আমরা। আজকাল আরব আমিরাতে বাঙালিদের দেখলেই বাম চোখে দেখে তারা। এবার ছবি তুলা শেষ করে গাড়ির কাছে আসতেই হাসিব ভাই এসে গেলেন পেট্টোল নিয়ে আবার ছুটলো গাড়ি আল আইনের পথে।

অত:পর আল আইন শহরে
রাস্তায় গাড়ি বিভ্রাট অধ্যায়ের সমাপ্তি করে বিকাল ৩টায় এসে পৌঁছলাম আল আইন শহরে। ঢুকতেই সিমসাম শহরটিতে আমাদের দেশের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছিলাম। দুবাই শহরে থাকি আমরা। আর দুবাই একটি নাগরিক যান্ত্রিকতায় গড়া নগর। আধুনিক সব সুবিধা আছে। আছে নয়নাভিরাম সুউচ্ছ দালান আমিরাত। কিন্দু আল আইনের প্রতিটি দালান যেন দেশের মতো। এমনকি বাতাসটি নির্মল। দুবাইয়ের বাতাস এতেটা নির্মল না। কারণ একটাই প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের গালিচা বিছানো আল আইনের অলি গলিতে আছে লোকাল আরবীরা। আর দুবাইতে সব খারিজি বা বিদেশীদের বাস। আমরা নেমেই হা করেই সুন্দর মসজিদটির দিরকে নয়নাভিরাম চেয়ে থাকছি। আর সেলিম ভাই কল দিলেন আমাদের আল আইনের হোস্ট ইয়াহিয়া ভাইকে। আল আইন শহরের ৪০ বছরের পুরনো প্রতিষ্টান রফিক পারফিউমের মালিক সৈয়দ রফিক আহমদ ইয়াহিয়া। আল আইন বঙ্গবন্দু পরিষদ ও প্রবাসি বড়লেখা সমাজকল্যাণ পরিষদের সহ সভাপতি ছাড়াও তিনি দীর্ঘ ৩০ বছরের আল আইন জীবনে বাঙালি কমিউনিটির জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সাথে মনে প্রাণে একজন সংস্কৃতিকমনা বাঙালি। ইয়াহিয়া ভাই। সেই ৩ ঘণ্টা থেকে অপেক্ষা করছেন আমাদের জন্যে। আমরা এলে একসাথে শেখা সালামা মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়বেন বলে। আমাদের গাড়ি বিভ্রাটে লেট। তবুও উনি আমাদের অপেক্ষায় মসজিদের কাছে। পরে উনার সাথে পরিচয় পর্ব ছেফে মসজিদের ভেতর দেখলাম। ক্যামেরা বন্দি করলাম আল আইন শহরের বুক থেকে গ্রুপ ছবি। ইয়াহিয়া ভাই আল আইন বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে আমাদের সবাইকে খাওয়ালেন দুপুরের খাবার। তখন বড্ড মিস করছিলাম বিয়ানীবাজারের সন্তান পরপারে চলে যাওয়া বন্ধু রো. এএসএম কামরুল হোসাইনকে। ২০১১ সালে এই আল আইন শহরেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। বারবার মনে পড়ছিলো একটি কথা’তোমার শহরে আজ নেই তুমি.. কামরুল থাকলে হয়তো আমাদের সঙ্গি হতেন। আরো জমতো বেশি। খাওয়া দাওয়া শেষ করে গাড়ি ছুটলো আমাদের লক্ষ্যপানে।

গাও গলা ছেড়ে, যাও বয়স ভুলে…..
আমরা ৩ প্রজন্মের ৬ জন আছি গাড়িতে। কথায় কথায় ছুটে গেলাম সীমানা পেরিয়ে। মাটির কাছে দেশের কাছে আমাদের মায়ের কাছে। গুনগুনিয়ে করিম শাহের একটি গান ধরলাম আমি। সেলিম ভাই বললেন গলা ছেড়ে গান। ইয়াহিয়া ভাইও গাবেন। শুরু হলো ‘আগো কি সুন্দর দিন কাটাতাম, থেকে অনেকটি লোক, পল্লী, আধুনিক ও দেশের গান। ইয়াহিয়া ভাই এবার গলা ছাড়লেন। বয়স বুলে উনিও একজন তরুণ হয়ে গেলেন আমাদের সাথে। আমাদের সুন্দর মনের সুন্দর মামু ক্যাত খলু চাচাও ধরলেন গান। কোরাসে চলে সবার একদিনের শিল্পী হয়ে ওঠার চেষ্টা। সবাই এখন গানে মশগুল। গাড়ি এসে দাঁড়ালো আল আইন চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানার আমপাশের রাস্তায় নানা প্রাণীদের লোহার তৈরী ভাস্কর্য আমাদের মুগ্ধ করে। রাস্তার পাশে লাগানো সবুজ গাছগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছিলো। লাগছিলো আমাদের দেশের পাট গাছের মতোই।আল আইন শহর থেকে মাত্র ৩০ মিনিট ড্রাইভ করেই আমরা এসে পৌছলাম আরব আমিরাতের সার্বোচ্ছ চূড়া ও বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ড্রাইভিং রোড জাবেল হাফিতে। আমাদের গাইড ৩০ বছরের পরবাস জীবনে ৭০ বারের বেশিও এই পাহাড়ে আসা কমিউনিাটি নেতা ইয়াহিয়া ভাই।

আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ চূড়ার উপর থেকে…
কল্পনা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসলাম জাবেল হাফিতে। পর্বতটি আল আইন শহরের উত্তর দক্ষিণে অবস্থিত। ১২৪৯ মিটার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতটি ওমানের বর্ডার হয়ে আছে। এর ইতিহাস জুড়ে আছে  সুপরিচিত ল্যান্ডমার্ক এবং আকর্ষণীয় পর্যটন। চুনা পাথরে ঘেরা পর্বতটিতে গুহার সিস্টেম।পর্বতটির রাস্তার দীর্ঘতা ৭.৫ মাইল। পর্বতের ২১ কোণ এবং তিনটি রাস্তা রয়েছে। রাস্তাগুলো জার্মানির প্রযুক্তিতে তৈরী করা হয়েছে। প্রায় ৫০০০ বছর আগে এই পর্বতের মাঝে ৫০০ প্রাচীন সমাধি পাওয়া গেছে। জাবেল আল হাফিতে পর্যটকদের থাকতে রাখা হয়েছে উচ্চ মানের ৫ তারা হোটেল ও রেস্টেুরেন্ট। তাও আপনাকে এডভেঞ্চার দেবে। সেই সাথে ১০০ বেগে গাড়ি চালানোর মজাই আলাদা। কেউ কেউ বাই সাইকেল নিয়ে এই পর্বত জয় করে। আমাদের চোখেও এমন কয়েকজন আরবী ছেলেদের দেখা মিললো। আবার বছরে দু একবার স্থানীয় সরকার এইখানে সাইকেল দৌড়ের প্রেতেযোগিতাও করে থাকে। যেন আকাশে হেলান দিয়ে পর্বতটি জমিনকে হাতছানি দেয়। সূর্যের কিরণ যেমনি কাছে থেকে পাওয়া যায় ঠিক তেমনি জোছনার আলোয় মাখামাখি হয় সবাই চান্নি পশর রাইতে। সূর্যাস্ত দেখতে পর্যটকরা এখানে ভীড় করে বেশি। মাথার উপর সূর্য অস্ত যায়। কেউ যেন হাত বাড়ালেই মুঠোতে চলে আসবে ঠিক এমনটি। আরবীরা খুব ভ্রমণপ্রিয় জাতি। তাই স্বপরিবারে গালিচা নিয়ে খাবার সহ চলে আসে এখানে। পাহাড়ের চূড়ায় খাবার খায় একসাথে। পাহাড়ের উপর রাখা হয়েছে ফাস্টফুড়ের দোকান। আছে বাথরুম ও বাচ্চাদের খেলনার উপাদান। চারদিকে বেড়া দিয়ে পাহাড়কে আগলে রাখা হয়েছে পরম যতনে। জাবেল হাফিতের নীচে রাখা হয়েছে একটি লেক। লেকটিতি আছে আবার নানা ধরণের মাছ। সুইমিং পুল করে রাখা হয়েছে দৃষ্টি নন্দিত। পর্বতের উপর থেকে নীচের দিকে তাকালে সবুজের হাতছানি দেখা যায়। আবার অন্যদিকে মাথার উপর আকাশ। চারিদিকে তাকালে দেখা যায় ঘন কুয়াশা। আকাশ থেকে মাটির এতোটা দূরত্ব।  মাটি থেকে পর্বতের মাথায় উঠতে আমাদের সময় লাগলো ১০০ বেগে ৩০ মিনিট। মধ্যখানে পার্কিংয়ে থামলাম। এমন ৫/৭ টি পার্কিং রাখা হয়েছে রাস্তার পাশেই। আবার গাছের কাঠের মাঝেই খুদাই করে পাথর দিয়ে লিখে রাখা হয়েছে নানা বর্ণিল ইতিহাস। আমরা ছবি তুলতে লাগলাম। সব দেশের পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় নজর কাড়লো। অবশেষে দেখা মিললো এক দুরন্ত বাঙালির। যে পর্বতের চিপা দিয়ে এক জায়গায় উঠে ছবি তুলছে। আমিও লোভ সামলাতে পারলাম না। এডভেঞ্চার বলেই কথা। আমিও পর্বতের বুক ছিড়ে উঠলাম। নিজেকে হিমালয় জয়ী লাগছিলো। ছবিও তুললাম। পরে এক স্থানীয় আরবীর নিষেধ মেনে নেমে এলাম। সন্ধ্যে গড়িয়ে যখর রাত আসছিলো আমরা ফেরে এলাম প্রকৃতির মায়াবি হাতছানি উপেক্ষা করে জীবনের তাগিদে। এসে থামলাম  আল আইন বাজারে। ইয়াহিয়া ভায়ের প্রতিষ্টানে। উনি চা খাওয়ালেন আমাদেরকে। পরে আল আইন বাংলা বাজারে গেলাম। এলাকার অনেকের সাথে দেখা করতে। সুমন ও রিপনদের সাথে দেখা হলো। দুবাইয়ের বাংলা বাজারের মতোই বাংলা বাজারটি। এই বাজারটির গল্প শুনে বাল্যকালে ঘুম পাড়াতেন আব্বা। ৯০ দশকের মাঝামাঝি তিনি ছিলেন আল আইন শহরে। আর আল আইনে সিলেটীদের বেশি বসবাস। অবশেষে এই মায়াময় আড্ডার শেষ করে উদ্দেশ্য আল আইন আরবী গ্রামে যাবো গ্রাম দেখবো। খলু চাচার নির্দেশনায় আল আইন আরবী গ্রামে ঘুরে দেখো হলো এশার নামাজ পড়লাম। সব মায়াবি পথের শেষ করে ফিরলাম আপন ঠিকানায়। সাঙ্গ হলো মিলনমেলা। এ যেন শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ।

লেখক: সম্পাদক, মাসিক মুকুল। আহবায়ক-পরবাসী পর্যটক, দুবাই। mukul.editor@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop