ছড়ায় ছড়ায় গল্প পূরণ: আমচুরি

Share Button

13269256_1543002056006231_1806096204132213674_n

জনপ্রিয় আর বৃহত্তম ফেসবুক গ্রুপ ‘কবি ও কবিতার আসর’ আয়োজন করে ‘ছড়ায় ছড়ায় গল্প পূরণ’। সম্ভবত ছড়াসাহিত্যে এই প্রথম এ ব্যতিক্রম আয়োজন। উদ্যোগ নেন গ্রুপটির নির্বাহি এডমিন ছড়াকার লুৎফুর রহমান। তাৎক্ষণিক সবাই মিলে এ গল্পটি পূরণ করলেন।

লুৎফুর রহমান
উঠো রাজু মীনায় ডাকে
রাজু তখন দেখে মা-কে
আমচুরিতে যাবে দুজন
মনে ভীষণ ভয়টা থাকে।
সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
ভয়ে ভয়ে যাচ্ছে তারা
পিছন দরজা তালা মারা
চাবি নেবে কারেন্ট গেলো
মোম জ্বালিয়ে চাবি পেলো ।

লুৎফুর রহমান
চাবি দিয়ে খুল্লো দুয়ার
গেলো তারা বাইরে
মীনা বলে ভয়টা লাগে
আমার কেন ভাইরে?

জাকির মোহাম্মদ
কেমন করে করবে চুরি আম
এই ভাবনায় চলে ডানে বাম
চলে তারা আতাল পাতাল অই
আম চুরি করে তারা করবে হইচই।
ফর্সা আকাশ হয়নি দেখে
লাগছে বুকে ভয়
পণ করেছে চুরির মজায়
ভয় করবে জয়।

মামুন উল্লাস
বাইরে তারা বেরুলো তাই
যাচ্ছে চুপি চুপি
টর্চ লাইটটা না পেয়ে তাই
হাতে নিল কুপি।
তাহের আহমদ রাজু
ভূতের ভয় থাকলেও মনে,
সাহস রাখে দুজন
শুনতে পারে ভোরের পাখির
কিচির মিচির কূজন।
কাব্য প্রিয় জিয়া
কিসের এতো ভয় মীনা
আমি সাথে আছি
পুকুর পাড়ের গাছের তলে
আছে মৌ মাছি ।
মামুন উল্লাস
ছুটছে তখন ঘাম
যেমন করেই নিতে হবে
গাছের পাকা আম।
সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
ভাইটি বলে ভয়টা কিসের
ভোর হলো সবে
ভয় পেলে তুই গাছের নিচে
আম কুড়াবি কবে?

অালমগীর কবির
গা ছমছম অন্ধকার!
ঝিঁঝিঁ তোলে ছন্দ কার?

মামুন উল্লাস
ভয়ের কি যে কারণ
শুনবে না তাই বারণ।

মাহবুবুর রাহীম
মীনা বলে লাগছেরে ভয়
হয়নি এখন ভোর
গা ছম ছম করছে ভাইয়া
দেখো কালো ঘোর।

আবু সায়ীদ রুপিয়ান
তর্ক বাধে ভাই বোনেতে
উঠবে কে যে গাছে,
দূরের ঝোপে হঠাৎ দেখে
পেত্নী বুড়ি নাচে।
রাজুর মনে ভীষণ সাহস
দাঁড়িয়ে থাকে খাড়া,
মিনা তখন পালিয়ে গেলো
ভয়ে দিশেহারা।

মামুন উল্লাস
উঠলো গাছে রাজু
নিচে দাড়ায় মীনা
চারদিকটায় তাকিয়ে আছে
কেউ আসছে কিনা।

লুৎফুর রহমান
পালিয়ে যাবার সময় মীনা
নড়লো গাছের পাতা
বলছে মীনায় যা তা
রাজু বলে ঠিক আছে কী
বোনটি গো তোর মাথা?
সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
ঢিল মারতেই পড়লো গিয়ে
পাশের বাড়ির চালে
রেগে গিয়ে চর মেরে দে
রাজু মিনার গালে।
লুৎফুর রহমান
রাজু যখন উঠলো গাছে
বইলো বাতাস খুব
আমটা খাবে মীনার আগে
উঠলো রাজুর লোভ।
মামুন উল্লাস
পাকা পাকা আমগুলো সব
রাজু নিচ্ছে পেড়ে
হঠাৎ করে বল্লো কে যে
সামনে আছিস কে রে?

লুৎফুর রহমান
ভূতের মাকি গাছে থাকে
মীনা যখন ফিরে
জিগায় রাজু বলতে পারিস
এই কথা তুই কি রে?

সাইফুল হক
করবে কি না চুরি
ভাবছে মিনা বুড়ি
রাজু বলে করে যাবো
আজকে আম চুরি।

মাহবুবুর রাহীম
গাছে উঠে আমের ডালে
যেই না দিলো নাড়া
ঠিক তখনই উঠলো জেগে
ভূতের অচীন পাড়া।

জাকির মোহাম্মদ
শুনছে মীনা ভূতের খবর
পাড়া পড়শীর কাছে
রাত নিশিতে তারা নাকি
খলখলিয়ে নাচে।

মামুন উল্লাস
মীনা বলে,ওরে রাজু
কথা বল্ কম
মনে তুই সাহস আন
জোরে নে দম।

লুৎফুর রহমান
গাছের পাতায় ভূত ও রাজু
মালিক শোনে জোরে
আমচুরিও ভূতরা করে
ভাবছে ঘুরে ঘুরে?

সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
পাশের বাড়ির দাদা বেটা,
দিলো জুড়ে হাঁক
রাজু মিনা লুকাই গেলো
পেয়ে গিয়ে ফাঁক ।

তাহের আহমদ রাজু
অাম চুরিতে অনেক মজা
ভয়টা যদিও থাকে
রাজু মীনায় তাকায় ওদিক
বাঁশের পাতার ফাঁকে।

লুৎফুর রহমান
মালিক দিলো কাশি
রাজু বুঝি খেলো ধরা
মীনায় দিলো হাসি
ভাবছে মীনা করবো কী যে
যদি এবার ফাঁসি?

মামুন উল্লাস
আবছা ছায়া কাছে যেন
আসছে খুবই তেড়ে
মুখে শুধু একটি কথা
কে রে তোরা কেরে?

লুৎফুর রহমান
ওসব শোনে মীনা নীচে
রাজু গাছের ডালে
চুপটি করে আছে দুজন
ওইনা ভোরের কালে।

মাহবুবুর রাহীম
রাজু বলে গাছের ডালে
কার কথা যে শুনি
ভূত নাকি বা অন্য কিছু
করছে যে গুনগুনি।

লুৎফুর রহমান
মীনা বলে আম পেয়েছি
বাতাসেরই তালে
ভুতের সাথে করবি খেলা
তুই কি গাছের ডালে?

আবু সায়ীদ রুপিয়ান
ধুত্তুরি এ ভাবছি কিযে
যাচ্ছে সময় কেটে,
চুপি চুপি পাহারাদার
ওই তো যায় হেঁটে।
ভাবলো মীনা হয়তো ব্যটার
আসছে চোখে ঘুম,
গাছে উঠে পাড়বো আম
রাজু বলে- হুম।

ফয়সল আহমদ ফয়েজ
ঘেউ ঘেউ করে উঠলো কুকুর
আবছা আলো আঁধার
ঘুম ভেঙ্গেছে পাশের বাড়ির
ছন্দ-মালার দাদার।

হৈ হৈ করে রৈ রৈ করে
আসলো তেড়ে দাদা
আম চোরিতে সুখ যত না
তার চেয়ে বেশি বাধা!

সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
হঠাৎ যেনো কিসের ছায়া
পড়লো মিনার চোখে
ভয়ে আবার দাঁড়াই আছে
আঙুল কামড়ে মুখে ।

লুৎফুর রহমান
ওসব বাঁধা পেরিয়ে তারা
আনবে ঠিকই আম
ভুতের ভয় লাগলে বেশি
গাছ থেকে ভাই নাম।

রাজু বলে মীনা
জ্বি না, জ্বি না, জ্বি না।

হলদে রাঙা আমটা দেখে
হাত বাড়ালো যেই
গাছের উপর শোনছে কথা
ধরবে না আম, হেই!

মোসলেহ উদ্দিন বাবুল
রাজু এখন মগডালে আর
মীনা গাছের নীচে,
ঘুটঘুটে রাত আঁধার করা
লেবুর ঝোঁপের পিছে
গা শির শির জোনাক জ্বলা
ছমছমানো রাত,
আম চুরির এই নীরব সময়
নড়ছে কার ঐ হাত !

লুৎফুর রহমান
ঘন কালো মুখটি তারই
গায়ে পোশাক দাদা
রাজু বলে কে গো তুমি
নাম কী তোমার দাদা?

নুশরাত জাহান ফারিয়া
কথা শুনে রাজু এখন
কাঁপছে গাছের ডালে
ভয়ে ভয়ে হাতটা বাড়ায়
চোখ হয়েছে লালে।

মাহবুবুর রাহীম
মীনা বলে ভয় কেনোরে
দে না জোরে নাড়া
মালিক জেগে উঠবে পরে
করছি যে তাই তাড়া।

আবু সায়ীদ রুপিয়ান
ভয় থাকিলে বলতো রাজু
আম করা যায় চুরি,
দেখ্না আমার এ থলিতে
রেখেছি এক কুড়ি।
কাঁচা পাকা টক মিষ্ট
পাড়তো দেখি পাড়,
আম চুরিতে ধরা খেলে
একটু ও নেই ছাড়।

হাসান স্বজন
হলদে রাঙ্গা আমটা আমায়
দেয় না রাজু ভাই
প্রথম পাড়া আমটা দিব?
একাই প্রথম খাই।

লুৎফুর রহমান
ঘাড় দিবো না আম নিবো না
ভূত মামা তাই শোন্
আম কুড়াতে আম মিলেনি
সাথে আমার বোন
গাছের উপর ভূতের আলাপ
মালিক শোনেই খুন!

সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
নাড়া দিতেই পড়লো ক’টা
পাকা পাকা আম,
পড়ে গিয়েই ফেটে গেলো ,
রইলো না তার দাম

লুৎফুর রহমান
ফেটে যাওয়া আমটা দেখে
কাঁদলো মীনায় জোরে
শোনলো মানুষ জাগলো যারা
ওইনা সেদিন ভোরে।

সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
মালিক বেটার রাগ কে দেখে
লাঠি খুঁজে গিয়ে
আম নিলো আম নিলো চোরে
আসে লাঠি নিয়ে।

সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
দৌড় দেবে কি মিনা রাজু
আম কে নেবে তবে?
আমের ঝুড়ি ফেলে গেলে
লুটে খাবে সবে।

রুবি সৈয়দ
আম কুড়ানির ঝি ও গো
আম কুড়ানির ঝি
আম বদল চাইলে তুই
আমায় দিবি কি।

লুৎফুর রহমান
ঝুড়ি সাথে আরেক গাছে
করলো মিশন এবার
এইখানে ভূত আসবে নাকি
সময় পিছু নেবার?

সৈয়দা মনাক্কা নাছিম
আড়াল গিয়ে মিনা রাজু
আম রেখে দেয় ঝুপে
মালিক গেলে নেবে তারা
এসে চুপে চুপে ।

লুৎফুর রহমান
বাঁশের পাতায় ঝুনঝুনিটা
বুকের ‘পরে ভয়
রাজু মীনার আম চুরিটা
চুরির মতোই হয়।

মেঘের চিঠি উড়ন্ত
মালিক বেঠা দৌড়ে এসে
পাইল নাতো কাউকে
তারি মধ্যে মিনা রাজু
চলে গেল ‘ডাউকে’।

জাকির মোহাম্মদ
মনের দুখে রাজুর মুখটা ভার
বলছে মীনা কাঁদিস না ভাই আর
লুৎফুর রহমান
কারণ চুরে নিয়ে গেলো
আম ছিলো এক ব্যাগে
ছুটছে চোরা যায়নি পাওয়া
ছুটলো অনেক বেগে।
চুরের পিছে ছুটবে তারা
সময় এখন নেই
মীনা রাজু অবাক একি
দোষটা কারে দেই?

অজিত রায় ভজন
কষ্ট করে চুরি করা
মিছেই হলো সার,
কান ধরেছি আম চুরিতে
যাবোই নারে আর।

আফতাব আহমদ সুইট
প্রথম চুরি করতে গিয়ে
আম হারালো ঠিক
খুঁজলো তবু পেলো না যে
পাশের চতুর্দিক।
উঠলো আবার আরেক গাছে
করলো নতুন মিশন
আমটা নিয়ে ঘরে যাবে
লক্ষ্য এটাই ভীষণ।

মাহবুবুর রাহীম
পাশের ডালে ছিলো দু’টো
মৌমাছিদের ঝাক
নাড়া পেয়ে করলো তারা
ভোঁ ভোঁ হাক ডাক।
মৌমাছিদের ডাকে রাজু
ভাবছিলো তা ভূত
বুঝতে পেরে হেসে বলে
আরে এসব? ধুত।

লুৎফুর রহমান
আমের গাছে মৌয়ের বাসা
ভূতরা কোথায় থাকে
তাইলে বুঝি ভূতরা আসে
অমনি ঝাঁকে ঝাঁকে?

কোলজুড়ে সব আমটা নিলো
মীনায় তখন হেসে
রাজুর চোখে নিকষ কালো
উঠলো আবার ভেসে…

জাকির মোহাম্মদ
উঠলো ভেসে চুপি চুপি
ভিন্ন রঙের আম
উঠে ডালে পাড়ছে আম
চেয়ে ডানে বাম

সৈয়দ শরীফ
কী ভেসেছে রাজুর চোখে?
মীনা কি তা জানে?
ভূতের ভয়তো আছেই জেগে
রাজু ও মীনার প্রাণে।

লুৎফুর রহমান
হিম শরীরে কাঁপছিলো
বলছে ভূতের বাপছিলো

জাকির মোহাম্মদ
না না ভূতের নানী ছিল
জানি আমরা জানি
নানীর সাথে রাজুর দেখা
হবেই এবার মানি

মাহবুবুর রাহীম
মিনা বলে আয় চলে ভাই
তাড়াতাড়ি নেমে
অন্য গাছে উঠা যাবে
একটুখানি থেমে।

লুৎফুর রহমান
গাছের পাতায় রাজু তখন
রাজুর কোন রা নাই
বলছে রাজু পা নাই।

সৈয়দ শরীফ
রাজু তো বেশ আমের পোকা
নামতে চায় না গাছ থেকে,
আম থাকিলে রাজুর পাশে
ভূত দ্যাখে সে কাছ থেকে।

মো. ময়েজউদ্দিন
মীনার কোলে আমগুলো সব
রাজুর নেই সাড়া
ভাবছে মীনা ডাকবে বুঝি
জাগবে যখন পাড়া।

লুৎফুর রহমান
রাজুর কোন নড়াছড়া
পাচ্ছে না ক্যান মীনা
তাইলে বুঝি আমগুলো সব
রাজুর দামে কিনা?

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop