লন্ডনে হাজার বছরের বাংলা কবিতা নিয়ে ছান্দসিকের অনুষ্ঠান- উল্লাসে সংকটে: দর্শক নন্দিত সৃজনশীল মুগ্ধকর অনুষ্ঠান

Share Button
  • আনোয়ারুল ইসলাম অভি

মৌলিক আদর্শের বিষয়টি এমনই, একবার ভেতর থেকে ধারণ করলে তা সব সময় বোধের মধ্যে থাকে। এবং বিষয় গুলো অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেবার মতো একটা চেতনা শক্তি কাজ করে। বিলেতের আবৃত্তি সংগঠন ছান্দসিক এর বেলায় সেটি হয়েছেও। সংগঠনের সবাই বাংলাদেশী এবং আবৃত্তি শিল্পীরা একটি প্রতিষ্ঠান এবং একজন আদর্শ শিক্ষাগুরুর শিষ্য! প্রয়াত সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব শ্রী হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য যিনি সিলেট বিভাগে সাংস্কৃতি অঙ্গনে কিংবদন্তিতুল্য, তার সম্মানে, তারই আলোকিত ছাত্রদের হাতে গড়া সংগঠন। যারা বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরকার প্রাপ্ত এবং বিলেতেও তাদের রয়েছে সেই ধারাবাহিত সৃজন কর্ম পরিধি।

পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে গত ২ জুলাই রবিবার হয়ে গেল কবিতা নিয়ে সৃজনশীল অনুষ্ঠান- উল্লাসে সংকটে। ছান্দসিক এর এটিই প্রথম অনুষ্ঠান। ‘হাজার বছরের বাংলা কবিতা’ শিরোনামে তাদের পরিবেশনায় ছিল অনিন্দ্য নান্দনিক উপস্থাপনা শৈলী। যা বিলেতে খুব কম অনুষ্ঠানেই দেখা যায়। হল ভর্তি দর্শক পিনপতন নিরবতায় বিমোহিত হয়ে উপভোগ করেছেন ছান্দসিকের ছন্দ এবং শব্দ নিয়ে করা কাজ যজ্ঞটি।

আবহাওয়া খুবই সহায়ক ছিল। এখন পূর্ণসামার সময় চলছে বিলেতে। সামারে লন্ডনের অনুষ্ঠান গুলো একটু দেরীতেই আরম্ভ হয়। সূর্য ডুবে বেলা নয়টার পরে। ফলে দর্শকরা সাধারণত সূর্যের আলো দেখে সময় বিবেচনায় হয়তো ভুলে যান এখন বিকেল গড়িয়ে যাবার কথা। ছান্দসিকের ‘উল্লাসে সংকটে’ অনুষ্ঠানের দর্শকদের বেলায় তা হয়নি। বেলা সাড়ে ছয়টায় হল ভরে যায় প্রায় কানায় কানায়।

অনুষ্টান শুরুর আগে ছান্দসিক এর নেথপ্যকারিগর প্রয়াত শ্রী হেমচন্দ ভট্টাচার্য্য কে স্মরণ এবং সম্মান প্রকাশ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক এবং তার ঘনিষ্টজন ইসহাক কাজল। হাজার বছরের বাংলা কবিতার অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলেন সাংবাদিক লেখক হামিদ মোহাম্মদ। ফলত আগত দর্শক অনুষ্ঠান সম্পর্কে পুরো ধারণা নিয়েই বলা যায় অনুষ্ঠানে নিমগ্ন হতে পেরেছেন।


হাজার বছরের বাংলা সাহিত্য হাজারও আলোক বর্তিকায় বিশ্ব সাহিত্যে উচ্চারিত। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একটি অংশ কবিতা দখল করে আছে। বাঙালি হিসাবে সাহিত্যে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মাননাটি কবিতা দিয়েই এবং রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যকে সম্মানীত করেছেন হাজার গুণ।

উচ্চারিত আছে, বাংলা সাহিত্যে উনবিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত শুধু কবিতাই রচিত হয়েছে। এবং কবিতায় আমাদের ধারাবাহিক উজ্জল অবস্থানই বলে দেয় সাহিত্য চর্চা এবং সাধনায় আমরা আলোর পথে থেমে নেই।

সাধারণ ভাবেও সাহিত্যের অন্যান্য শাখার চেয়ে কবিতা পাঠক মনে বেশী চর্চিত। বাঙালিদের সৃজনশীলতায় কবিতা মিশে আছে আনন্দ উচ্ছাস দুঃখ-সুখের ভাবনা নিয়ে। বাঙালি প্রেম এর সিংহভাগ কবিতায় নিমগ্ন বলেই উচ্চারিত আছে। তরুণ অথবা যুবায় পা দেয়া বাঙালি প্রেম করেছে আর কবিতা লিখেনি, এমন প্রেমি নাকি পাওয়া দুস্কর! অর্থাৎ বাঙালির সুখ-দুখ বিরহ,ব্যাথা, রাগ-অনুরাগ, যোগ-বিয়োগ, আনন্দ-উচ্ছাসে কবিতা মিশে আছে অক্সিজেনের মতো। বাঙালি মানব প্রেমে কবিতার সংস্পর্শ ছাড়া নুন বিহীন তরকারীর মতো। যা মানবিক সুখের, অদ্ভুদ ভালোলাগার বিষয়।

ছান্দসিকের হাজার বছরের বাংলা কবিতায় ছিল তাদের সেই দূরপ্রসারী নিমগ্ন চিন্তা। ছিল মনমাতানো শৈলী। সাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডার থেকে বিশেষ কিছু কবিতা নির্বাচন করে নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকাশ করতে বিশেষ দক্ষতা দরকারি। পাঠকের সার্বজনিন বিমুগ্ধতা এবং একই সুতোয় অনুষ্ঠান ধরে রাখার সুকৌশলী হতে হয়। ছান্দসিক যা করে দেখাতে পেরেছে মুন্সিয়ানায়।

বাংলা গান এবং কবিতায় প্রাচীনতম চর্চাপদ কে ভিত্তি ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুটাও হয়েছে সেভাবে। উল্লাসে সংকটে অনুষ্ঠান চর্যাপদ কবি কাহ্নপদ এর কবিতা দিয়ে শুরু হয়।

‘শোনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’-চণ্ডিদাসের নীতি কবিতা- গানে কবিতায় পাঠ দর্শককে করেছে অদ্ভুদ মানবিক মায়ায় বিমোহিত।

ষোড়শ শতাব্দির কবি জ্ঞান দাস এর কবিতা স্থান পেয়েছে সম্মিলিত কণ্ঠে। কবি রাম প্রসাদ সেন এর ‘মনরে কৃষি কাজ জানো না’- যখন শব্দশিল্পী শতরুপা চৌধুরী কণ্ঠে ধরেন তখন, হল ভর্তি দর্শক এর মন ডুব দেয় মন খারাপ করে দেয়া এক মায়াময় বিমুগ্ধতায়। অন্যরকম ভালো লাগায় ইস্ট লন্ডনের মন চলে যায় নাড়িপোতা বাংলাদেশের গ্রাম বাংলায়। গীতিকাব্যটির সমবেত আবৃত্তি ছিল বাড়তি পাওনা। পরের আবৃত্তিতে যেতে ছান্দসিক দলের বাড়তি কিছু ভালোলাগা সময় দিতে হয়েছে দর্শকদের, মুগ্ধতায় তাদের দীর্ঘ করতালির জন্য।

মদন মোহন তর্কালন্কারের প্রভাত কবিতায়-পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইলো/ কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিলো/ রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে/ শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে/…। অসাধারণ আবৃত্তি আমাদের নিয়ে গিয়েছে মন খারাপের ছোট বেলায়। আমরা হেঁটেছি স্মৃতির মেঠো পথ, যা সব সময় সবার মনে থাকে জীবন্ত।

অনুষ্ঠান সাজানোতে দক্ষতার ছাপ ছিল। দর্শক বিবেচনায় সময়ের ক্রমধারায় কবিতা গুলো এদিক সেদিক ছিল, যা বেমানান বা ছন্দপতন লাগেনি। চমৎকার মানিয়ে গেছে।

  • এরপরে আমাদের লোক সাহিত্য প্রকাশ পেয়েছে। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি সমৃদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে আমাদের লোকসাহিত্য। আবহমান গ্রাম বাংলার মাটি মানুষ ঘেষা রচনা গুলো মূলত রচিত হয়েছে অক্ষর জ্ঞানহীন অথবা স্বশিক্ষিত সংখ্যা ঘরিষ্ট মানুষের মাধ্যমে। ফকির লালন সাঁই, গগণ হরকরা, কাঙাল হরিনাথ, রাধারমণ, হাসন রাজা থেকে শুরু করে বাউল আব্দুল করিম পর্যন্ত এই লোকধারাটি বাংলা সাহিত্যকে যেমন প্রাচুর্যময় করেছে তেমনি, বাংলা সংস্কৃতি, কৃষ্টিকে ভিন্ন ভাষী সাহিত্য ও সংস্কৃতি বোদ্ধাদের মন কাড়তে সক্ষম হয়েছে। অনুষ্ঠানে লালন সাঁই এর চরণ নিবেদিত হয়েছে তাঁর কবিতা ও গানে। মানব প্রেম ,আধ্যাত্মিক, মানবিক, মানব দর্শণ ও চিন্তা চেতনার চর্চিত বিকাশ বহে চলা লোক সাহিত্য এর প্রাণবন্ত পরিবেশনা বলা যায়- মন খারাপ করেছে পরবাসী বাঙালিদের মন।

বাংলা সাহিত্যের ধ্রবতারা মাইকেল মধুসুদন দত্ত এর চমৎকার উপস্থাপন ছিল। বাংলা ভাষাকে যিনি তার চরিত জীবন পাঠ দিয়ে দেখেছেন- মাতৃভাষাই শ্রেষ্ঠতম, তার সফল ‘অতিত্রাক্ষর ছন্দ’ সমৃদ্ধ মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ’ এর বঙ্গভাষা কবিতা।

বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কবিতা প্রাধান্য পেয়েছে সঙ্গত কারণেই। ১৯১৩ সালে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব নন্দিত করার গৌরবটি তিনিই তার নোবেল পুরস্কারের মাধ্যমে উপহার দিয়েছিলেন। ছান্দসিক সচেতন ভাবেই বিশ্ব কবিকে তাঁর কবিতায় উল্লাসে সংকটে অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেছেন।

আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর কবিতাও ছিল ভোরের আলোর মতো প্রকাশিত এবং জাগরণী উচ্চারণে। বাংলা সাহিত্যের ধ্রবতাঁরা গুলোও ছিলেন- জীবনানন্দ দাশ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জসীম উদ্দিন, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পূর্ণেন্দু পত্রী, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ, শহীদ কাদরী এবং রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তাঁরা কবিতায় হাসি আনন্দ, আনন্দ বেদনার কাব্য শুনিয়ে গেছেন আবৃতি শিল্পীদের কণ্ঠ দিয়ে।

অনুষ্ঠান শুরুর মিনিট পনের পরেই নিদৃষ্ট আসন গুলো দখলে চলে যায় দর্শকদের। অনেক দর্শক দাঁড়িয়ে দেখেছেন অনুষ্ঠানটি; কষ্ট ভুলে,মন্দ্রমুগ্ধের মতো পিনপতন নিরবতায়। সর্বমোট বিশজন কবির ২৭টি কবিতা আবৃত্তি হয়।

বিলেতের দর্শকদের সৃজনমান এর প্রশংশা অনেক আগের। তাঁরা প্রশংসায় কিপটেমি করেন না। এখানে সেই ভালোলাগা মুহুর্ত গুলো ছিল বিরামহীন। প্রতিটি কবিতা পাঠের পরপরই তাদের করতালি পারফরমারদের করেছে আরও প্রাণবন্ত এবং সপ্রতিভ। যা নিঃসন্দেহে পুরো অনুষ্ঠানের অনেক সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে।

  • হাজার বছরের বাংলা কবিতায় আবৃত্তি করেছেন আটজন আবৃত্তি শিল্পী। তাঁরা সবাই বাংলাদেশ থেকে একাডেমিক যোগ্যতা সম্পন্ন হয়ে এখানে নিয়মিত আবৃত্তি চর্চা করে যাচ্ছেন। ছান্দসিক এর প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মুনিরা পারভিন এর একটা সহজাত বৈশিষ্ট আছে- যে কোন সৃজনশীল কাজ উপস্থাপনায় তার আপন মৌলিকত্ব প্রকাশ পায়। উল্লাসে সংকটে – তার প্রকাশ শৈলী ছিল আরও সপ্রতিভ। হাসিয়েছেন, কাদিয়েছেন আবার অনুভবে গ্রাম বাংলার মেঠোপথ গুলোও আমাদের স্মৃতির পালকিতে করে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন।

রেজুয়ান মারুফ এর আবৃত্তি মন ছোঁয়ে গেছে স্মৃতির পাললিক মোহনার কাছাকাছি। ছাড়াকার, উপস্থাপক ,আবৃত্তি শিল্পী হিসাবে বিলেতে সব জায়গায় স্বচ্ছ উপস্থিতি আছে রেজুয়ান মারুফের। নিজের সংগঠন এর প্রথম সৃজন অনুষ্ঠানের জন্য হয়তো তার বাড়তি চর্চা ছিল। আমরা তাকে মুগ্ধকর, প্রাঞ্জল, প্রাজ্ঞ আবৃত্তিশিল্পী রূপে দেখেছি।

আফসানা সালাম এর অনবদ্য আবৃত্তি বিমোহিত করেছে। রাজপথ,মানবিক, সামাজিক এবং মঙ্গণালোকের কবিতায় আমাদের জাগরণ এবং প্রত্যয়ের বাণী শুনিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের স্মৃতির পুটুলিতে দিয়ে গেছেন ইস্ট লন্ডনের সতেজ বিকেল।


ফারহানা মনির ভরাট কণ্ঠ দিয়েছে বাড়তি প্রেমময় মাদকতা। হারিয়ে যাওয়া মন অথবা বাংলাদেশে ফেলে আসা বিকেল গুলো এতোদিন যারা মনে করেননি। ছিল অগুরুত্বপর্ণ ও অবহেলায়। তিনি কবিতায় তাদের মনে কড়া নেড়েছেন- হলফ করে বলতে পারি।

শতরুপা চৌধুরী গানে কবিতায় ছিলেন অনবদ্য। বিশেষ করে চন্ডিদাসের শোনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। এবং মদন মোহন তর্কালন্কারের প্রভাত কবিতা- পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইলো/… এর পরিবেশনা দর্শকদের হৃদয় কেড়েছে। আমরা আমাদের শৈশব এবং মানবিক আবহমান গ্রাম বাংলায় ঘুরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে শতরূপার আবৃত্তি।

  • জিয়াউর রহমান সাকলেন ছিলেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রায় সবখানে। একক এবং যৌথ পরিবেশনা শ্রাবন দুপুরের মতো সৃজনআবহে দর্শক মন জয় করেছেন। তাহেরা চৌধুরী লিপি পরিবেশনায় ছিল আপন স্বতন্ত্র। সাধারণের মাঝে অদ্ভুদ এক সৃজনশীলতা ছড়িয়ে দিয়েছেন তার প্রতিটি পরিবেশনায়। রাজিব জেবতিক এর আবৃত্তি না শুনলে যে কেউই বিশ্বাসে বিভ্রাট হবে পারেন। নিপাট ভদ্র,শান্ত স্বভাবের মানুষটি মঞ্চের এককোণে বসেছিলেন। তার আবৃত্তি চুম্বকের মতো কেড়ে নিয়েছে হল ভর্তি দর্শকের মন সঙ্গে নিবিষ্ট ভালোবাসার দৃষ্টি।

তিনটি যৌথ পরিবেশনায় চমৎকার নৃত্য করেছেন সোনিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের ভূমিকা বক্তব্য রাখেন জাকি চৌধুরী। তবলায় ছিলেন-গৌতম কুমার সিকদার, বাঁশি বাজিয়েছেন মখলিসুর রহমান, কিবোর্ডে রিয়াদ .সাউন্ড ব্যবস্থাপনায় সামসুল জাকি স্বপন। শিল্প সংযোজনে মো: আবদুস সামাদ।

হাজার বছরের বাংলা কবিতা নিয়ে ছান্দসিকের এটাই প্রথম পরিবেশনা। মোট আট জন আবৃত্তি শিল্পী পরিবেশন করেছেন ২৭টি কবিতা। চর্চাপদের কবি কাহ্নপাদ থেকে সাম্প্রতিকতম কবিদেও মধ্যে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর কবিতা অন্তভূক্ত হয়েছে হাজার বছরের বাংলা কবিতায়।


অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগঠনের আহবায়ক মুনিরা পারভিন জানিয়েছেন তাদের পেছনের গল্প-‘ আমরা আজ এই মঞ্চে দাঁড়াতে পেরেছি একজন শিক্ষাগুরুর কারণে। তিনি হলেন প্রয়াত শ্রী হেমচন্দ ভট্টাচার্য্য। সিলেটে সাংস্কৃতি অঙ্গণে তিনি কিংবদন্তি তুল্য মানুষ ছিলেন। ভালবেসে সিলেটের মানুষ তাঁকে বাবুলদা বলে ডাকেন। মঞ্চের আট জন শিল্পীই স্যার এর সরাসরি ছাত্র এবং বিনয়ে বলি, সবাই সিলেট থেকে বিভিন্ন শাখায় জাতীয় ভাবে পুরস্কার প্রাপ্ত। ছান্দসিক নামটি আমাদের স্যারই ঠিক করে দিয়েছেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আপনারা দেখেছেন যে, অনুষ্ঠানের শুধুতে আমরা একটি আবৃত্তি বাজিয়ে শুনিয়েছি। এটা স্যারের কণ্ঠের সর্বশেষ আবৃত্তি। আমরা স্যার এর সম্মানে তার আবৃত্তির সিডি থেকে আবৃত্তি পরিবেশন করেই অনুষ্ঠান শুরু করেছি এবং আজকের অনুষ্ঠানটিও তাঁকে উৎসর্গিত। আমরা আজীবন তার শেখানো নীতি আদর্শে থেকে আবৃত্তি চর্চা ছান্দসিকের মাধ্যমেই করতে চাই’।

রাত সাড়ে নয়টায় শেষ হয় উল্লাসে সংকটে অনুষ্ঠানটি। সামারের সূর্য প্রায় মিনিট দশেক আগে অস্তমিত হয়েছে। তবে আকাশটা এখনও অর্ধেক উজ্জল। ব্রার্ডি আর্ট সেন্টার থেকে বের হওয়া দর্শকদের চোখে মুখে একটা পরিতৃপ্তির হাসি আছে। এই পরিতৃপ্তির জন্য ধন্যবাদটি অবশ্যই ছান্দসিক এর প্রাপ্য।

  • ভ্যেলেন্সন রোড হয়ে আসছিলাম। ভেতর মনটা সূর্যমুখী আলোয় ভরে আছে। এক রকম প্রেরণাদায়ী ভালোলাগা কাজ করছে মনে- একজন নিপাট ভদ্র, সাধারণের মাঝে অসাধারণ ও প্রখর জ্ঞানী ব্যক্তিটির প্রতি মানুষের ভালোবাসায় দেখে! সিলেট শিশু একাডেমীর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে দুই হাজার পাঁচ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পঁচিশ বছর তিনি আবৃত্তি বিভাগে সিনিয়র প্রশিক্ষক ছিলেন। সম্মানী হিসাবে একটা টাকাও নেননি। অথচ তিনি অর্থনৈতিক ভাবে সম্পদশালী ছিলেন না। নিখাদ ভালোবেসে নিরলস শুধু কাজ করে গেছেন আমৃত্যু।

    সিলেটের কাষ্টঘরে জন্ম নেয়া শ্রী হেমচন্দ ভট্টাচার্য্য আজ ভৌগলিক সীমানার বাইরে।তার আদর্শিক জল সুরমা-কুশিয়ারা হয়ে মিলেছে টেমস নদীতে। পরাগায়িত হয়েছে সিলেটের শিশু একাডেমি থেকে ব্রিটেন।ইষ্ট লন্ডনের বাঙালি পাড়ার ঐতিহ্যবাহী ব্রাডি আর্ট সেন্টারে। ছান্দসিক হচ্ছে তার আরেক প্রাণ। নিকট আগামীতে ছান্দসিক দ্বিভাষী আবৃত্তির অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে। যা বাংলা সংস্কৃতি এবং সাহিত্যকেই উজ্ঝল করবে মাল্টিকালচারাল লন্ডন শহরে! দর্শককুলের পক্ষ থেকে সিলেটের অগণন মানুষের প্রিয় বাবুলদা(শ্রী হেমচন্দ ভট্টাচার্য্য)কে শ্রদ্ধা। একটি মুগ্ধকর স্মৃতি জাগানিয়া অনুষ্ঠান এর জন্য ছান্দসিক কে অভিনন্দন এবং আগামীর পথ চলায় সাথে থাকার প্রত্যয় প্রকাশ করছি। উল্লাসে সংকটে- আলোর দ্যুতি ছড়াক পরবর্তী অনুষ্ঠান পর্যন্ত। শুভ কামনা।

লেখক: কবি ,সাংবাদিক, লন্ডন

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
AllAccessDisabledAll access to this object has been disabledBC05FA029A07A848PCsjCNaGNJe5LR37EUm8shabpwPl7QGhI7vSKfwUCEhy8mhVnccSAT4khjFW5vYYOQWwpzKLtN0=
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop