ভোট জালিয়াতি বাংলাদেশী অভিবাসী এবং নতুন আইন ফারুক যোশী

Share Button
বাংলাদেশের গত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন নিয়ে তর্ক আছে, যুক্তি আছে পক্ষে বিপক্ষে। এ ভোটে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা কিংবা জোর করে ভোট প্রদান কিংবা ভোট প্রদান না করা প্রভৃতি বিভিন্ন কথাগুলো উঠে এসেছে। ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক থাকবেই। বাংলাদেশ এবং এই দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রাপথ আসলেও কন্ঠকাকীর্ন। দীর্ঘ চার দশক পরও আমাদের দেশ এমনকি একটা সুষ্ট নির্বাচন কিংবা সমালেচনাহীন নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়ে উঠেনি। বলতে গেলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কিংবা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই এর জন্যে দায়ী করা যেতে পারে।
আলোচিত নিবন্ধটি বাংলাদেশ নিয়ে নয় । ব্রিটেনের নির্বাচন, তবুও বাংলাদেশ প্রসংগটিই এসেছে ঘোরে-ফিরে। যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের মতো ব্রিটেনের নির্বাচনগুলোও তাদের গণতান্ত্রিক পথচলার প্রধান এক স্থম্ভ। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট নির্বাচন—- এসব নির্বাচন এখানে উৎসবমুখর হয়ে উঠে না। বরং যে ব্যাপারটা আমাদের মাঝে মাঝে ধাক্কা দেয় তা হলো নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে না। ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসার কিংবা ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা হাতি-ঘোড়া মারেন, বসে বসে চা-কফি পান করেন। দেশের অর্ধেক মানুষই নির্বাচনের অংশীদার হননা।  কিন্তু এজন্যে ব্রিটেনের বাকি অর্ধেক মানুষ গণতন্ত্রের যাত্রাপথে কোন বাধা হয়ে দাড়ায় নি কিংবা কোনসময় নির্বাচনে জনগণের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে নি। কারন ভোট প্রদানে অংশ নেবার জন্যে সব দলই যার যার জায়গা থেকে আহবান করে। সেজন্যেই স্বাভাবিকভাবেই ভোট নিয়ে কোন প্রশ্নও উঠে না কিংবা পার্লামেন্ট গঠন নিয়ে দেশব্যাপীতো নয়ই, পৃথিবীব্যাপী কোন আলোচনা-সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয় না দেশটিকে।
কিন্তু গত ক‘বছর থেকে যে বিষয়টি একটু একটু করে জনসমক্ষে কিংবা গণমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে, তাহলো ভোট জালিয়াতি। ব্রিটেন ঐতিহ্যগতভাবেই বহুজাতের মানুষের একটি দেশ।  সেজন্যেই বিভিন্ন সম্প্রদায় কিংবা জাতি-গুষ্ঠির লোকরা এখানে ভিত্তি গেড়েছে। ভিত্তির কারনেই  গত প্রায় বিশ বছর থেকে সংখ্যালঘুদের মাঝ থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছে বিভিন্ন শহরগুলোতে। তিন্তু যতই সময় গড়িয়েছে, ততই যেন ভোট নিয়ে আলোচানা-সমালোচনা উঠতে শুরু করলো।
ব্রিটেনে ভোট প্রদানে জনগণকে আরও উৎসাহিত করে তোলতে পোষ্টাল ভোট একটা প্রধান মাধ্যম। দেখা গেছে পোষ্টাল ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এরকমই অভিযোগ উঠে একজন বাঙালী কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে গত ২০০৬ সালের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে। বার্ণলী কাউন্সিলের লিবারেল ডেমোক্রেটের এই প্রার্থী এবং আরেকজন পাকিস্থানী বংশদ্ভোত কাউন্সিলারের এজন্যে ১৮ মাসের জেলদন্ডও হয়। অবশ্য এর আগে ২০০৪ সালে এরকম ঘঠনা ঘঠেছিলো বার্মিংহামে। পাকিস্থানী বংশদ্ভোত ছয়জন কাউন্সিলার ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবার পর ২০০৫ সালে কোর্টের রায়ে এদের ভোট জালিয়াতী প্রমান হলে আদালত এদের আসন শূন্য বলে ঘোষনা করেন এবং আগামীর নির্বাচনে এদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে নিষিদ্ধ করা হয়।  এই ভোট জালিয়াতী হয়েছিলো মূলত পোষ্টাল ভোটকে কেন্দ্র করেই। তারা প্রতারনা করে বিভিন্ন ভোটারের সাক্ষর কপি করেছিলেন। সেই থেকেই বিভিন্ন সময় এরকম জালিয়াতি হচ্ছে বলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মনে করে আসছিলো। বিশেষত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বাঙালি-পাকিস্থানী বংশদ্ভোত কাউন্সিলারদের ইদানিং ব্যাপকভাবে প্রার্থী হবার কারনে দেশীয় এলাকাভিত্তিক গ্রুপিং এর মধ্যি দিয়ে ভোট জালিয়াতির নতুন নতুন পদ্ধতির অবতারনা হচ্ছে এবং একধরনের গ্রাম্য রাজনীতির সব ধরনের কুঠিলতাকে এরা ধারন করেই কতিপয় প্রার্থী নির্বাচনী বৈতরনী পাড়ি দেবার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আছে। স্বাভাবিকভাবে এ নিয়ে যে অনৈতিক কর্মকান্ড তারা করছেন, তা কোন না কোনভাবে চাউর হয়ে গেছে। সেজন্যে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি এক ঘোষনায় লন্ডন বারার শুধুমাত্র ইস্ট এন্ডকে নির্বাচনী প্রতারনার কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাঙালী অধ্যূষিত টাওয়ার হ্যামলেটস বারাসহ ইংল্যান্ডের মোট ১৬ টি বারাকে তুলনামুলকভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইলেকট্রোরাল কমিশন। এই ষোলটি এলাকার মধ্যে লন্ডনের দ্বিতীয় বৃহৎ বাঙালি অধ্যূষিত সিটি বার্মিংহাম ছাড়াও পাকিস্থানী অধ্যূষিত বার্ণলী, ব্রাডফোর্ড, ব্লাকবার্ন, কভেন্ট্রি,ওল্ডহ্যাম, স্লাও প্রভৃতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিবাসীদের এলাকা গুলো চিহ্নিত। এই অবস্থার কারনেই অর্থাৎ ব্যপকহারে ভোট জালিয়াতি বৃদ্ধি পাবার আগেই তারা এর প্রতিকারে নেমেছে। সে লক্ষ্যেই সারা ব্রিটেনজুড়ে ভোটারদের ফটো আইডি কার্ড চালু করার ব্যাপারে তারা এগুচ্ছে এবং ইতিমধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য নর্দাান আয়ারল্যান্ডে বহু আগ থেকেই এ ব্যবস্থা প্রচলিত। এবং এই মডেলকেই এখন ব্রিটেনে চালু করা হচ্ছে।
নিঃসন্দেহে ফটো আইডি চালু করার এ ব্যবস্থা নেহাৎ ছোটখাটো বাজেট নয়। কিন্তু এই বাজেটকে সামনে নিয়েই ব্রিটেনকে আগাতে হচ্ছে এখন। হয়ত ব্রিটেনের সার্বিক পরিস্থিতিতে নর্দান আয়ারল্যান্ডের মতো ব্রিটেনকেও ভোট পদ্ধতি নিয়ে সংস্কারে হাত দিতে হতো। এবং এটা হওয়াটা অস্বাভাবিকও নয়। মিশ্র মানুষের এই দেশে নিজেদের সংস্কৃতির চর্চা করতেই পারে যে কেউ। এবং কমিউনিটি হিসেবে বাংলাদেশী অভিবাসীদের গর্ব করার মতো ঘঠনাগুলোও আছে। ইষ্ট লন্ডন-বার্মিংহাম-ওল্ডহ্যাম-ম্যানচেষ্টার প্রভৃতি শহরগুলোতে তা আমরা প্রত্যক্ষ করছিও। টাওয়ার হ্যামলেটস বারা এ বছর ব্রিটেনের সর্বোচ্চ সোশ্যাাল হাউজ নির্মানে রেকর্ড সৃষ্ঠি করেছে। বাঙালি মেয়র লুৎফুর রহমান তার নির্বাচনকালীন সময়ের ঘোষনার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিন বছরে তিন হাজারেরও বেশী বাড়ী নির্মান করতে পেরেছেন। এবং তার স্বীকৃতিস্বরুপ সরকারী বোনাস হিসেবে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড টাওয়ার হ্যামলেটস পেয়েছে বোনাস হিসেবে শুধু এ বছরই। ব্রিটেনের কোন বারায় বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে এবছর এই বোনাসই সর্বোচ্চ বোনাস। কিন্তু বিস্ময় এবং লজ্জা একই সাথে যে, ব্রিটেন মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ডের স্কীম হাতে নেবে, এবং গণমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রশাসনে এর জন্যে বাংলাদেশী বংশদ্ভোত মানুষের দিকে অঙ্গুলি তোলবে, তা-তো মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে।  বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে ভোট কারচুপি কিংবা জোরপুর্বক ভোট প্রদানের ব্যপারটা বিভিন্নভাবে উচ্চারিত। অদুর ভবিষ্যতে হয়ত এ অপসংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারবেও না। ব্রিটেনে যেখানে নতুন করে আইন প্রনয়ন করতে হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে তা হয়ত সম্পুর্নরুপে বন্ধ করাও যাবে না। কিন্তু ব্রিটেনের মতো একটা দেশে নির্বাচনে বিজয়ী হবার জন্যে ভোট কারচুপির যে অপসংস্কৃতি ২০০৪ সালে পাকিস্থানী কাউন্সিলাররা শুরু করেছিলো এবং ক্রমান্বয়ে খুব দ্রুত বাংলাদেশী কমিউনিটির কতিপয় কাউন্সিলার এটা রপ্ত করার কারনে একই সাথে সারা ব্রিটেনের মানুষের টার্গেট হয়ে গেলো বাংলাদেশী কমিউনিটিও। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্যেও একটা কলংক হয়েই থাকবে।
বাংলাদেশের গত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন নিয়ে তর্ক আছে, যুক্তি আছে পক্ষে বিপক্ষে। এ ভোটে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা কিংবা জোর করে ভোট প্রদান কিংবা ভোট প্রদান না করা প্রভৃতি বিভিন্ন কথাগুলো উঠে এসেছে। ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক থাকবেই। বাংলাদেশ এবং এই দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রাপথ আসলেও কন্ঠকাকীর্ন। দীর্ঘ চার দশক পরও আমাদের দেশ এমনকি একটা সুষ্ট নির্বাচন কিংবা সমালেচনাহীন নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়ে উঠেনি। বলতে গেলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কিংবা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই এর জন্যে দায়ী করা যেতে পারে।
আলোচিত নিবন্ধটি বাংলাদেশ নিয়ে নয় । ব্রিটেনের নির্বাচন, তবুও বাংলাদেশ প্রসংগটিই এসেছে ঘোরে-ফিরে। যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের মতো ব্রিটেনের নির্বাচনগুলোও তাদের গণতান্ত্রিক পথচলার প্রধান এক স্থম্ভ। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট নির্বাচন—- এসব নির্বাচন এখানে উৎসবমুখর হয়ে উঠে না। বরং যে ব্যাপারটা আমাদের মাঝে মাঝে ধাক্কা দেয় তা হলো নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে না। ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসার কিংবা ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা হাতি-ঘোড়া মারেন, বসে বসে চা-কফি পান করেন। দেশের অর্ধেক মানুষই নির্বাচনের অংশীদার হননা।  কিন্তু এজন্যে ব্রিটেনের বাকি অর্ধেক মানুষ গণতন্ত্রের যাত্রাপথে কোন বাধা হয়ে দাড়ায় নি কিংবা কোনসময় নির্বাচনে জনগণের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে নি। কারন ভোট প্রদানে অংশ নেবার জন্যে সব দলই যার যার জায়গা থেকে আহবান করে। সেজন্যেই স্বাভাবিকভাবেই ভোট নিয়ে কোন প্রশ্নও উঠে না কিংবা পার্লামেন্ট গঠন নিয়ে দেশব্যাপীতো নয়ই, পৃথিবীব্যাপী কোন আলোচনা-সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয় না দেশটিকে।
কিন্তু গত ক‘বছর থেকে যে বিষয়টি একটু একটু করে জনসমক্ষে কিংবা গণমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে, তাহলো ভোট জালিয়াতি। ব্রিটেন ঐতিহ্যগতভাবেই বহুজাতের মানুষের একটি দেশ।  সেজন্যেই বিভিন্ন সম্প্রদায় কিংবা জাতি-গুষ্ঠির লোকরা এখানে ভিত্তি গেড়েছে। ভিত্তির কারনেই  গত প্রায় বিশ বছর থেকে সংখ্যালঘুদের মাঝ থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছে বিভিন্ন শহরগুলোতে। তিন্তু যতই সময় গড়িয়েছে, ততই যেন ভোট নিয়ে আলোচানা-সমালোচনা উঠতে শুরু করলো।
ব্রিটেনে ভোট প্রদানে জনগণকে আরও উৎসাহিত করে তোলতে পোষ্টাল ভোট একটা প্রধান মাধ্যম। দেখা গেছে পোষ্টাল ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এরকমই অভিযোগ উঠে একজন বাঙালী কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে গত ২০০৬ সালের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে। বার্ণলী কাউন্সিলের লিবারেল ডেমোক্রেটের এই প্রার্থী এবং আরেকজন পাকিস্থানী বংশদ্ভোত কাউন্সিলারের এজন্যে ১৮ মাসের জেলদন্ডও হয়। অবশ্য এর আগে ২০০৪ সালে এরকম ঘঠনা ঘঠেছিলো বার্মিংহামে। পাকিস্থানী বংশদ্ভোত ছয়জন কাউন্সিলার ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবার পর ২০০৫ সালে কোর্টের রায়ে এদের ভোট জালিয়াতী প্রমান হলে আদালত এদের আসন শূন্য বলে ঘোষনা করেন এবং আগামীর নির্বাচনে এদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে নিষিদ্ধ করা হয়।  এই ভোট জালিয়াতী হয়েছিলো মূলত পোষ্টাল ভোটকে কেন্দ্র করেই। তারা প্রতারনা করে বিভিন্ন ভোটারের সাক্ষর কপি করেছিলেন। সেই থেকেই বিভিন্ন সময় এরকম জালিয়াতি হচ্ছে বলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মনে করে আসছিলো। বিশেষত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বাঙালি-পাকিস্থানী বংশদ্ভোত কাউন্সিলারদের ইদানিং ব্যাপকভাবে প্রার্থী হবার কারনে দেশীয় এলাকাভিত্তিক গ্রুপিং এর মধ্যি দিয়ে ভোট জালিয়াতির নতুন নতুন পদ্ধতির অবতারনা হচ্ছে এবং একধরনের গ্রাম্য রাজনীতির সব ধরনের কুঠিলতাকে এরা ধারন করেই কতিপয় প্রার্থী নির্বাচনী বৈতরনী পাড়ি দেবার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আছে। স্বাভাবিকভাবে এ নিয়ে যে অনৈতিক কর্মকান্ড তারা করছেন, তা কোন না কোনভাবে চাউর হয়ে গেছে। সেজন্যে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি এক ঘোষনায় লন্ডন বারার শুধুমাত্র ইস্ট এন্ডকে নির্বাচনী প্রতারনার কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাঙালী অধ্যূষিত টাওয়ার হ্যামলেটস বারাসহ ইংল্যান্ডের মোট ১৬ টি বারাকে তুলনামুলকভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইলেকট্রোরাল কমিশন। এই ষোলটি এলাকার মধ্যে লন্ডনের দ্বিতীয় বৃহৎ বাঙালি অধ্যূষিত সিটি বার্মিংহাম ছাড়াও পাকিস্থানী অধ্যূষিত বার্ণলী, ব্রাডফোর্ড, ব্লাকবার্ন, কভেন্ট্রি,ওল্ডহ্যাম, স্লাও প্রভৃতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিবাসীদের এলাকা গুলো চিহ্নিত। এই অবস্থার কারনেই অর্থাৎ ব্যপকহারে ভোট জালিয়াতি বৃদ্ধি পাবার আগেই তারা এর প্রতিকারে নেমেছে। সে লক্ষ্যেই সারা ব্রিটেনজুড়ে ভোটারদের ফটো আইডি কার্ড চালু করার ব্যাপারে তারা এগুচ্ছে এবং ইতিমধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য নর্দাান আয়ারল্যান্ডে বহু আগ থেকেই এ ব্যবস্থা প্রচলিত। এবং এই মডেলকেই এখন ব্রিটেনে চালু করা হচ্ছে।
নিঃসন্দেহে ফটো আইডি চালু করার এ ব্যবস্থা নেহাৎ ছোটখাটো বাজেট নয়। কিন্তু এই বাজেটকে সামনে নিয়েই ব্রিটেনকে আগাতে হচ্ছে এখন। হয়ত ব্রিটেনের সার্বিক পরিস্থিতিতে নর্দান আয়ারল্যান্ডের মতো ব্রিটেনকেও ভোট পদ্ধতি নিয়ে সংস্কারে হাত দিতে হতো। এবং এটা হওয়াটা অস্বাভাবিকও নয়। মিশ্র মানুষের এই দেশে নিজেদের সংস্কৃতির চর্চা করতেই পারে যে কেউ। এবং কমিউনিটি হিসেবে বাংলাদেশী অভিবাসীদের গর্ব করার মতো ঘঠনাগুলোও আছে। ইষ্ট লন্ডন-বার্মিংহাম-ওল্ডহ্যাম-ম্যানচেষ্টার প্রভৃতি শহরগুলোতে তা আমরা প্রত্যক্ষ করছিও। টাওয়ার হ্যামলেটস বারা এ বছর ব্রিটেনের সর্বোচ্চ সোশ্যাাল হাউজ নির্মানে রেকর্ড সৃষ্ঠি করেছে। বাঙালি মেয়র লুৎফুর রহমান তার নির্বাচনকালীন সময়ের ঘোষনার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিন বছরে তিন হাজারেরও বেশী বাড়ী নির্মান করতে পেরেছেন। এবং তার স্বীকৃতিস্বরুপ সরকারী বোনাস হিসেবে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড টাওয়ার হ্যামলেটস পেয়েছে বোনাস হিসেবে শুধু এ বছরই। ব্রিটেনের কোন বারায় বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে এবছর এই বোনাসই সর্বোচ্চ বোনাস। কিন্তু বিস্ময় এবং লজ্জা একই সাথে যে, ব্রিটেন মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ডের স্কীম হাতে নেবে, এবং গণমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রশাসনে এর জন্যে বাংলাদেশী বংশদ্ভোত মানুষের দিকে অঙ্গুলি তোলবে, তা-তো মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে।  বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে ভোট কারচুপি কিংবা জোরপুর্বক ভোট প্রদানের ব্যপারটা বিভিন্নভাবে উচ্চারিত। অদুর ভবিষ্যতে হয়ত এ অপসংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারবেও না। ব্রিটেনে যেখানে নতুন করে আইন প্রনয়ন করতে হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে তা হয়ত সম্পুর্নরুপে বন্ধ করাও যাবে না। কিন্তু ব্রিটেনের মতো একটা দেশে নির্বাচনে বিজয়ী হবার জন্যে ভোট কারচুপির যে অপসংস্কৃতি ২০০৪ সালে পাকিস্থানী কাউন্সিলাররা শুরু করেছিলো এবং ক্রমান্বয়ে খুব দ্রুত বাংলাদেশী কমিউনিটির কতিপয় কাউন্সিলার এটা রপ্ত করার কারনে একই সাথে সারা ব্রিটেনের মানুষের টার্গেট হয়ে গেলো বাংলাদেশী কমিউনিটিও। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্যেও একটা কলংক হয়েই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk