মিজানুর রহমান মীরু’র শূন্যতা ও রোদ্দুর: সুখপাঠ্য এক কাব্যগ্রন্থ

Share Button

pic 01

আনোয়ারুল ইসলাম অভি:
সম্প্রতি হয়ে গেল কবি মুজিবুর রহমান মীরুর শূন্যতা ও রোদ্দুর কবিতাগ্রন্থের বর্ণাঢ্য প্রকাশনা উৎসব।আয়োজক সংগঠন বন্ধু স্বজন।
আমন্ত্রণ পত্রে জানিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল বেলা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রকাশনা অনুষ্ঠান। সময়কে বিদ্রুপ করার অমানবিক চর্চা এখানেও জেগে ছিল! তবে ৭ টার অনেক পরে যখন উপস্থাপক সবার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান শুরু করেন তখন অনুষ্টানহল প্রায় ভর্তি ছিলেন দর্শকে। কবির সতীর্থ স্বজনদের উপস্থিতির সাথে কবি,লেখক,সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে দর্শকদের মুখ মলিন হয়নি বলা যায়!

pic 02

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন এর প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদের, প্রধান আলোচক ভাষাতত্ববিদ ড. আব্দুল হান্নান।এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন, সাংবাদিক গবেষক ইসহাক কাজল,সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক আহমদ ময়েজ,কবি ময়নূর রহমান বাবুল,কবি শাহ শামীম, কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল,সাহিত্য সংস্কৃতির ওয়েব পোর্টাল পলল সম্পাদক কবি সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম অভি,কবি সৈয়দ রুম্মান। আয়োজক সংগঠন বন্ধু স্বজনের অনেক সতীর্থও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

pic 03

প্রকাশনা উৎসবের সভাপতি তরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ফারুক মিয়া ও কবি ফয়জুর রহমান ফয়েজ। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে ছিল-কবিতা আবৃত্তি।বলা যায় বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী সালাউদ্দিন শাহীন ও শতরুপা চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে দিয়েছেন বাড়তি সৃজন আবহ। আরেকটি বাড়তি পাওনাও তৃপ্তি দিয়েছে দর্শক – কবি সবাইকে এককপি শূন্যতা ও রোদ্দুর কাব্যগ্রন্থটি উপহার দিয়েছেন!
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন এর মিনিস্টার প্রেস নাদিম কাদের বলেন- প্রবাসে বসে দেশের টানে বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চা নিঃসন্দেহে প্রশংশনীয় কাজ। মিজানুর রহমান মীরু তার গ্রন্থিতকাব্য গ্রন্থে- প্রেম বিরহ দুঃখ হতাশা স্থান পেয়েছে।তেমনি আমাদের সামাজিক রাজনৈতিক অসংঙ্গতির চিত্রও তুলে ধরেছেন। নাদিম কাদের কবির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতার পঙতির প্রশংসা করেন এবং কবি আরও সুখপাঠ্য কবিতা লিখবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান আলোচক ড. আব্দুল হান্নান কবি মিজানুর রহমান মীরুর কবিতার বিভিন্ন দিক আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বিশ্বসাহিত্যর ধারাবাহিকতাকে সামনে নিয়ে আসেন।ইংরেজী ও বাংলা সাহিত্যের কয়েক দশকের কবিতায় সময় ও রাজনৈতিক সামাজিক জীবনচিত্রের প্রভাব ইত্যাদির আলোকপাত করে বলেন- কবিতাই সাহিত্যের প্রথম এবং আদি বাহন। ড. আব্দুল হান্নান কবি মীরুর কয়েকটি কবিতার চরণ উদ্বৃত করে বলেন কবির শব্দচয়ন,পদবিন্যাস এবং বাণীর গভীরতা কবিতাকে অন্তরমুখীনতার এক আলোকোজ্জল নান্দনিকতায় যেমন নিয়ে যায় তেমনি কবির নিজস্বতা এবং স্বতন্ত্র অস্তিত্বের কথাও আমাদেরকে জানান দেয়।

সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক কবি আহমদ ময়েজ বিশেষ অতিথির অলোচনায় উঠে এসেছে কবিতার সময়কে ধারণ করার প্রসঙ্গটি- “ত্রিশের কবিদের প্রভাবে যে ষাটের কাব্যধারা তৈরী হয়েছে বর্তমান বাঙালি কবিরা সেই ধারায় আবর্ত। তিনি আজকের কবিদের যুগ যাতনা থেকে সরে যাবার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন আমরা যে সময় পার করছি সেটি একটি বোধহীন কাল।মানুষ তার চারপাশ থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কবি মীরুর কাব্যবক্তব্যে তার সময়কাল স্পর্শ করলেও তা ভাষা সময়কালকে উপস্থাপন করতে বা চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। কবির শুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই।কিন্তু সময়কালকে সময়ের উপযোগী করে তোলা জরুরি।

কবি শাহ শামীম আহমদ বলেন- নব্বই দশকের গোড়ার দিকে মিজানুর রহমান মীরুসহ যে কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল উদিয়মান কবি সিলেটের সাহিতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছিলেন,তারই ধারাবাহিকতায় আজ লন্ডনে এ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ। আগামীতে কবি এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করি।

সাংবাদিক ইসহাক কাজল বলেন-মা-মাটি দেশপ্রেম নিয়ে লেখা কবির কবিতাগুলো আমাদের দেশপ্রেমে উদ্ধোদ্ধ করে।

কবি ময়নূর রহমান বাবুল বলেন- মীরু রাজনীতিসচেতন কবি।বিলেতে ব্যস্ততার মাঝে সাহিত্য চর্চা চালিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন কাজ সেখানে মীরু নিয়মিত কবিতা চর্চা করছেন,তাকে অনেক অভিনন্দন। সুখপাঠ্য কবিতা গুলো পাঠকের মনে দাগ কাটবে বলে আশা করি।

কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল বলেন- বিলেতে বসে আমরা যারা সৃজনচর্চা করি তাদের দলে মীরুও একজন। তার কাব্যগ্রন্থ পাঠকপ্রিয় হোক তিনি নিয়মিত লিখুন এটাই প্রত্যাশা।

পলল সম্পাদক কবি সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম অভি আলোচনায় বলেন- কবিতা সাধনার বিষয়। একজন কবি কতটুকু সফল তা পাঠকই নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।মীরু কবিতায় আমাদের রাজনৈতিক সামাজিক সময় এবং দুঃখ ক্রোধ হতাশা অথবা আশার দিকগুলো ছন্দবদ্ধভাবে ধরে রাখতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন,তাকে অভিবাদন অভিনন্দন।
সৈয়দ রুম্মান বলেন- কবির বেশ কয়েকটি অনন্য কবিতা স্থান পেয়েছে শূন্যতা ও রোদ্দুর কাব্য গ্রন্থে।তবে কয়েকটি কবিতায় শব্দচয়নে একটু সচেতন হওয়া উচিত ছিল। তাহলে কাঠামোর ভিতরে থেকে কবিতা গুলো আরো নান্দনিক ছোয়া পেত বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।
শূন্যতা ও রোদ্দুর গ্রন্থের লেখক মিজানুর রহমান মীরু নিজের লেখালেখি সম্পর্কিত অনুভূতি ও প্রকাশনা উৎসবে বিভিন্ন আলোচকদের বক্তব্যের জবাবে বলেন- আমার কবিতার প্রথম পাঠক আমিই। শিল্পোত্তর্ণ কবিতা বলতে আমি বুঝি, যা মানুষের জন্য পথ রচনা করে।একই লেখকের সকল কবিতা শিল্পোত্তির্ণ হয়ে উঠেনা।কোন কোন লেখা পাঠককে স্পর্শ করে কিন্ত একজন লেখক তার সব লেখাকে সন্তানের মতো ভালোবাসে।সকল সন্তান যেমন সমান হয়না তেমনি সকল কবিতাও সমান আবেগ তৈরী করতে পারেনা।এ্ই প্রবাসে সকল ব্যস্ততার কারণে আমাদের ক্রটির মধ্যে হাটতে হয়।আপনাদের সমালোচনা সৃজনকর্মে পাথেও হয়ে থাকবে।
আজকের আয়োজক বন্ধুদের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা। সবার কাছে আমি ঋণী হয়ে রইলাম।
শূন্যতা ও রোদ্দুর কবি মিজানুর রহমান মীরুর প্রকাশিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬-এ প্রকাশক করেছে চৈতন্য প্রকাশনী।গ্রন্থস্বত্ব লেখক।উৎসর্গ করেছেন কবির তিন সন্তান-সাইমুন,সায়হাম ও ঐশী-কে। তৌহিন হাসান এর মনকাড়া প্রচ্ছদের বইটির মূল্যরাখা হয়েছে ১১০টাকা।গ্লোবালি বইটি কেনা যাবে রকমারীডট কম থেকে।
একঘণ্টা দেরীতে শুরু হওয়া প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি শেষ হয় শেষ হয় রাত দশটায়। দর্শকদেরও কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করলেন বন্ধুস্বজন আবারও- রাতের ডিনার প্যাকেটটি সকলের হাতে তুলে দিয়েছেন! বিলেতে সামার সময় চললেও হিমেল ঠান্ডা থাকে রাতে। অনুষ্ঠানস্থল থেকে আমরা যখন বের হচ্ছিলাম তখন হাসিমুখে মুগ্ধতা নিয়েই ইষ্টলন্ডনের ঠান্ডাপথ মাড়িয়ে ক্লান্তিহীন বাড়ী পৌছেছি! জয়তু কবি ও কবিতা।

pic4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop