ময়নূর রহমান বাবুলের গল্প

Share Button

M R BABUL

রেললাইন সমান্তরাল

শহরে সবাই একনামে চিনে গাজী সাহেবকে। আর কিছুদিন পরে সারা দেশের মানুষই চিনবে। এমপি যখন হয়েছেন, মন্ত্রী হতে আর দেরীইবা কত ? এতটুকু পথ যেহেতু জীবনের সাফল্যের দিকেই নিয়ে গেছে অতএব বাকীটুকুতো শানৈ: শানৈ: উন্নতি আর ঝক্মকানো হওয়ারই কথা।

গাজী সাহেব মানে সুলেমান গাজী। শহরের একনম্বার আসনের এমপি। বিপুল ভোটে জয়লাভ। টাকাও খইয়ের মতো গেছে বৈকি ! তাতে কি ? সাফল্য আর নামডাকতো হাতের মুঠোয়। কিন্তু গাজী সাহেবের এই উন্নতির কথা মনে হতেই মনের অন্যকোনে জ্বলে উঠে তার অতীত জীবনের পাতাঝরা দিনগুলোর এক ঝিলিক আলো।

ভদ্দারহাট গ্রামের পাশদিয়ে বয়েগেছে নদী। সে নদীর পারে বড় বাঁধ। বাঁধের ধারে সরকারী খাস জমি। এখানে ইউনিয়নের মেম্বারকে পায়ে হাতে ধরে একটা ভিটা তৈরীকরে পরানগাজী খড়কোটার একটা ঘর তৈরী করেনেন। অবশ্য পরান গাজীর দাদা নাকি খুব বিত্ত্বশালী লোক ছিলেন। যেন জমিদার আর কি ! জমি জমা আর পাট ব্যবসার আয় থেকেই সব চলতো, নিজে কোন কাজ করতেননা। বনে বনে শিকার করে আর লাঠিখেলায় মগ্ন থেকে সময় কাঁটাতেন। এই শিকার করতে করতে একদিন একটা বাঘের সামনে পড়েযান। বাঘের ঝাপটায় পড়ে বাঁচার জন্য প্রাণপনে বাঘের সাথে কুস্তি করতে করতে একসময় বাঘের মুখে হাত ঢুকিয়ে তার জিহ্বায় টান দেন। এক সময় বঘের জিহ্বা ছিড়ে চলে আসে। কিন্তু ততক্ষনে তার হাতটা কনুইয়ের উপরে বাঘের দাঁতে চিবিয়ে থেত্লিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েগেছে। ক্লান্তীতে তিনি একদিকে আর বাঘ অন্যদিকে পড়ে থাকা অবস্থায় কিছু লোক তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পাতালতার চিকিৎসা নিয়ে তিনি মুটামুটি ভাল হয়ে আরো সামান্য কিছুদিন বেঁচে ছিলেন। তখন থেকেই “গাজী” উপাধীটা তাদের।

সুলেমান গাজীর বাবা পরান গাজী তার দাদা বাঘের সাথে লড়ে গাজী পদবীটা নিয়ে আসলেও এখন সুলেমান গাজী তা খুব আয়েশে ব্যবহার করছেন। পরান গাজী মারা যাবার পর বিধবা রমিলা চার ছেলেমেয়ে নিয়ে গ্রামের স্কুলের হেডমাস্টারের ঘরে কাজ করেন। এই সুবাদে মাস্টার তার ছেলে সুলেমানকে স্কুলে ভর্তি করে দেন।

সুলেমান লেখাপড়া করে। অবসর সময় পাশের বাড়ীর মেম্বারের জমিতে ঘাস বাছে নিড়ানী দেয়। তাতে সেও কিছু রোজগার করে। কিন্তু এসব দিয়েতো আর চলেনা। তখন খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন যায়। এরকম অপুষ্টিতে ভোগে ছোট মেয়েটা একদিন মারাগেল। মাও কালাজ্বরে আর একটা ভাই আমাশয়ে মরাগেল।

সুলেমান একদিন ভোররাতে পাশের গ্রামের পাশদিয়ে যাওয়া ট্রেন লাইনে এসে দাঁড়ায়। রেললাইনের আঁকাবাঁকা পথধরে সে হাটতে থাকে। এই প্রথম তার রেললাইন দেখা। পা ফেলে পা তুলে সুলেমান। সামনে, আরো সামনে যায়। সে দুইটা লোহার লাইনই শুধু সামনে দেখতে পায়। দুইটা লাইন ডোরাকাঁটা পথের উপর দিয়ে গেছে। কাঠগুলোকে সে বাঘের ডোরাকাঁটা পীঠ মনেকরে। আর ভাবে, এ লোহাগুলো এতদুর যায় কিন্তু কখনো একটা আরেকটার সাথে মিশেনা কেন ? ধনী লোকগুলো যেমন ধনী হয়েই চলে আর গরীবগুলো অন্যদলে। কেউ মিশতে পারেনা কারো সাথে।

দাড়াকান্দা ষ্টেশনে এসে দাঁড়ায় সে। হুইসেল বাঁজিয়ে এমন সময় একটা ট্রেন এসে প্লাটফরমে দাঁড়ায়। লোক উঠানামা করে। সুলেমানও এ সময়ের মধ্যে কিছু ইতস্ততা করে এবং গিয়ে ট্রেনে উঠে। ট্রেন সামনের দিকে ঝিকি ঝিকি ঝাক্ শব্দ তুলে হুইসেল বাঁজিয়ে ছুটে চলে। সুলেমান তার এই অজানা নিরুদ্দেশ যাত্রায় আর কিছু অনুমান করতে পারেনা।

পথে পথে ষ্টেশনে থেমে থেমে ট্রেন এসে সন্ধ্যায় একটা বড় শহরে থামে। সব লোক হুড়মুড় করে নেমে যায়। খালি হয়ে যায় সমস্ত ট্রেন। সুলেমানও ট্রেন থেকে নামে। হাটতে হাটতে শহরে ঢুকে পড়ে। রাত হয়ে গেছে। একটা দোকান ঘরের কাছে টিউবওয়েলের হাতলে চাপ দিয়ে পানি বের করে। মুখটা ধোয় এবং পেট ভরে পানি খায়। তারপর দোকানটার বারান্দায় এটা কাঠের ব্রেঞ্চে সে শুয়ে থাকে।

ভোর রাতে ফজরের আযান শোনে তার ঘুম ভাঙ্গে। শহরের মাইকে আযানের শব্দ তার কানে এই প্রথম গেল। এরই মাঝে দোকানের লোকটাও এসে গেছে দোকানে। খুব ভোর থেকে দোকান খোলা হয়। লোক আসে এখানে রুটি ভাজি ডাল ইত্যাদি দিয়ে পেটভরে নাস্তা করতে। সুলেমান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওসব দেখে। আস্তে আস্তে ভীড় জমেযায় দোকানে। দোকানদার তার তিনজন কর্মচারী নিয়ে খদ্দেরদের ভীড় সামাল দিতে পারেনা। আজ তার দু’জন কর্মচারী আসেনি। একজনের মা মারাগেছে অপর জনের অসুখ।

অবস্থা দেখে সুলেমান একসময় কাজে সাহায্য করতে হাত বাড়ায়। দোকান মালিক কোন প্রাথমিক আলাপ ছাড়াই সায় দেন। বাসন কোষন, প্লেট চামচ ধোঁয়। কাষ্টমারদের রুটি ভাজি এগিয়ে দেয়। আবার কখনো রুটি বানানোর জন্য ময়দার কাঁইটা মাখিয়ে দেয়। সবজিগুলো কেঁটে টিউবওয়েল থেকে ধুঁয়ে এনেদেয়। মালিক একবার সুলেমানকে কিছু খেয়ে নিতে বলেন। সুলেমান খেয়ে নেয়। ইতিপূর্বে কবে সে এরকম পেট ভরে খেয়েছে তা সে মনে করতে পারেনা। অথবা আদৌ খেয়েছে কি না তাও মনে নেই।

এভাবে কাজে কাজে রাত গভীর হয়। আস্তে আস্তে দোকানের ভীড় কমে। দোকান মালিক সবকিছু ঘুটিয়ে নিতে বলে নিজে সারা দিনের আয়ের টাকাগুলো ঘুছানো এবং গননা করতে শুরু করেন। সব গুছগাছ শেষ হলে একটা পাটের ব্যাগে টাকাগুলো নিজের কাছে রেখে চিন্তা করেন আজ আয় একটু বেশীই হয়েছে। এক কাপ চা নিজেকে দিতে একজন কর্মচারীকে ফরমায়েশ করেন মালিক। তারপর ডাকেন সুলেমানকে। সুলেমানের সবকিছু শোনে তাকে কাজে ভর্ত্তি করেদেন আজ থেকেই তার দোকানে। দুইবেলা খাওয়াসহ বেতন দেবেন মালিক। কিন্তু সুলেমান থাকবে কোথায় ? অতএব আপাতত: মালিকের বাসায়ই সুলেমানের থাকার ব্যবস্থা হয়। পরে অন্যকোথাও থাকার একটা সুরাহা করে দেয়া যাবে। অতএব মালিকের সাথেই সুলেমান বাসায় যায় এবং রান্নাঘরের একাংশে তার থাকার ব্যবস্থা হয়।

দোকান মালিকের নাম মনির। স্বস্ত্রীক থাকেন দোকান থেকে মাইল খানেক দূরে তার নিজের বাসায়। বাসা আরকি ! একটা একচালা টিনের দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর। একটা কক্ষে তারা স্বামী-স্ত্রী থাকেন অপর কক্ষটায় রান্নাঘর। পাশে একচিল্তে খালি জায়গা আছে। রশি লটকানো আছে। সেখানে কাপড় শুকানো হয়। স্ত্রী মাঝেমধ্যে একটা শিম বা লাউগাছ সেখানে লাগান এই যা কাজে লাগে।

অনেক বছর হয়েছে তাদের বিয়ের। কিন্তু সন্তানাদি হয়নি। দু’জন লোকের সংসারে দোকানের এরকম রোজগারটা একটু বেশীই যেন।

দোকান মালিক মনিরের স্ত্রী রাবেয়ার কোন আপত্তি না থাকায় সুলেমানের এবাসায় থাকার ব্যবস্থা স্থায়ী হয়েগেল। কয়েকখানা টিন এনে বাড়তি জায়গাটায় একটা কক্ষ নির্মান করে সুলেমানের থাকার ব্যবস্থা হলো। এদিকে দোকানের আয়ও অনেক বেড়েগেল। হাতে অনেক টাকা এখন মনিরের।

সুলেমানের দায়িত্ব অনেক বেড়েগেল। যথাযত দায়িত্ব পালন করে সে আরো বিশ্বস্থ হয়েগেল মালিকের কাছে। যেন তাদের পরিবারেরই একজনের মতো। মনির রাবেয়া নিজেদের মনের অজান্তেই যেন সুলেমানকে খুব আপন করে নিলেন।

বছরখানেক পরের ঘটনা। ভোর রাতথেকে মালিক তার বুকে ব্যথা অনুভব করছেন।্ সুলেমান মালিককে বিশ্রামের জন্য ঘরে রেখে সে দোকানে চলে গেল। আজ মালিকের ছুটি। সুলেমানই দোকান চালাবে। অবশ্য এরকম মাঝেমধ্যে দায়িত্ব পালন আগেও সে করেছে। দুপুর বেলা খবর এলো দোকান মালিক মারাগেছেন। সুলেমান আরো দায়িত্বশীল হলো। মালিকের মৃত্যু পরবর্তী সব দায়িত্ব ঘরে ও দোকানে সে ভালভাবেই সমাধা করলো।

মনিরের মৃত্যুর পর থেকে ব্যবসা আরো বেড়ে গেল। পাশের দোকান ঘরের জায়গাটা কিনে নিলো সুলেমান আর দোকান আরো প্রশারিত করে হোটেল করা হলো এটাকে। বাসার পাশের আরেকটা বড় প্লট ক্রয়করে বড়করে দু’তলা একটা বিল্ডিং করা হলো। এর মধ্যে নিজেদের দু‘রুম রেখে বাকীটুকু ভাড়াদেয়া হলো। এভাবে এখন চতুর্দিক দিয়ে আয় বাড়তে লাগলো।

সুলেমান ইতোমধ্যে কাজশেষে গভীর রাতে এক দুই ঘন্টা করে বই পড়ে আর প্রাইভেট ভাবে এসএসসি এবং এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়ে ওগুলোতে উত্তীর্ন হয়। এভাবে বিএ পাশও করে নেয়।

ব্যবসাও ইতোমধ্যে আরো দু’তিনটা হয়েছে। সবগুলোই যেন টাকা তৈরীর মেশিন হিসাবে কাজ করছে। শুধু টাকা আর টাকা, লাভ আর মুনাফা। এরই মাঝে একটা গার্মেন্টের ব্যবসায় সে আরেকজনের সাথে অংশীদারীতে ব্যবসা শুরুকরে। এক সময় সে ব্যবসা পুরোটাই সুলেমান একা করে নেয়। এরই মধ্যে রাবেয়া মারা যান। তার সহায় সম্পত্তি সবকিছুর মালিক হয়েযায় সুলেমান। অবশ্য রাবেয়ার নিকট আত্মীয় কেউ ছিলনা বলে তিনি সুলেমানকেই সব দিয়ে যান দলিলমূলে।

সুলেমান প্রথম যেদিন দোকানে ভর্ত্তি হয় সেদিন থেকেই দেখেআস্ছিল এই দোকানের সামনে রাস্তার পাশে অনেক লোক ভোর থেকে একটা কোদাল কাস্তে আর বেতের তৈরী টুকরী নিয়ে বসে থাকতো কাজের জন্য। মজুরী খাটা এ লোকগুলো এখানে ভোর থেকে বসে থাকতো। লোক এসে যার যতজন মজুর দরকার ততজনকে নিয়েযেত। এযেন ঠিক মাঠের মধ্যে গরু মহিষ গুলো পা গুড়ে বসে জাবর কাঁটার মতো। খরা বা বন্যায় চাষ বন্ধ থাকায় তাদের এ অপেক্ষা। এসব দেখে খুব ময়া হতো সুলেমানের। আবার শহরে কতো বড় বড় দালান। কত ধনী বিত্তশালী লোকও আছে, তা সে ভাবতো। এসব ব্যবধান সুলেমানকে সব সময়ই ভাবিয়ে তুলতো। মানুষে মানুষে ব্যবধান, রেলপথের দুটো লাইনের ব্যবধান ! জড় এবং জীবনের এসব ব্যবধানতো মানুষই ৈেতরী করেছে কোননা কোন কারনে, সুলেমান এসব ভাবে।

এসব ভাবনা আর কর্মের মধ্যে চলমান জীবনে বাস্তবতার মুখোমুখি এখন সুলেমান। এখন ঠিক যেন ঐ ধনী বিত্তশালীদের দলে সুলেমানের নাম। শুধু তাই নয় ; অনেক রাজনৈতিক নেতারাও আসেন সুলেমানের কাছে। চাঁদা নেন। পাড়ার বা শহরের সামাজিক অনুষ্ঠান গুলোয় সুলেমানকে নিয়ে মঞ্চে বসানো হয়।

ব্যবসাও এখন অনেক বেশী। শহরের সবচেয়ে বড় হোটেলটার মালিক সুলেমান। বিদেশে প্রচুর জিনিষ রপ্তানী হয় তার গার্মেন্টস্ থেকে। এককথায় সুলেমান এখন বিত্তশালী – বড়লোক।

দেশের বড় দলের নেতা আসেন এ শহরে। থাকেন সুলেমানের হোটেলে। এতে সুলেমান কোন অর্থ নেননা, এমনকি ঘোষনা করেন যে, তিনি এ হোটেলে সবসময়ের জন্য তাদের নেতা কর্মীদের থাকা খাওয়া ফ্রি করে দেবেন। এতে নেতা বা কর্মীগন এবং তাদের দল খুশীহয় সুলেমানের উপর। শহরের মেয়র ইলেকশনে তারা দলের প্রার্থী দেন সুলেমানকে। সুলেমান বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

সবকিছুই যেন সুলেমানের জীবনে স্বপ্নের মতো ঘটে যায়। এর পরের সাধারন নির্বাচনে মেয়র পদ ছেড়ে দিয়ে এমপি পদে নির্বাচন করে তাতেও এক অভাবনীয় বিজয় ছিনিয়ে আনে। এখন তার দলের নীতি নির্ধারনী কমিটির অন্যতম একজন সুলেমান গাজী।

দল এখন ক্ষমতায়। দলের ভিতরের এবং সরকারের মধ্যকার ফিস্ ফিসানীতে বুঝা যাচ্ছে, অচিরেই সুলেমান গাজীর সরকারী গাড়ীতে পতাকা উঠবে এবং আগে পিছে হুইসেল দিয়ে পুলিশের গাড়ী চল্বে।

একদিন দলের এক বিরাট জনসভায় প্রধান অতিথি হয়ে তিনি ভদ্দারহাট এলাকায় যান। জনসভা শেষে স্থানীয় স্কুলটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষয়িত্রী এমপি সাহেবকে কিছু দাবীদাওয়া সম্বলিত একটা স্মারকলিপি হাতে তুলেদেন। হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষয়িত্রীর হাতের একটা কাঁটা দাগ দেখে সুলেমান চমকে উঠেন। স্মারকলিপিতে প্রদানকারীর স্বাক্ষরে নামটা দেখে তিনি প্রধান শিক্ষয়িত্রীর চোখের দিকে তাকান।

এমপি সুলেমান গাজী স্থীর চেয়ে থাকেন জাফরীনের চোখের দিকে। আর কোন সন্দেহ নাই যে, জাফরীনের বাবা যখন হেডমাস্টার ছিলেন তখন তার বাড়ীতে সুলেমানের মা কাজ করতেন আর হেডমাস্টারই প্রথম সুলেমানকে স্কুলে ভর্ত্তি করে দিয়েছিলেন। তখন জাফরীন ছিল সুলেমানের সহপাঠি। মার সাথে হেডমাস্টারদের বাড়ীতে গেলে সুলেমান জাফরীনের সাথে ওবাড়ীতে খেলতো। খাবার খেতো।

জাফরীন চোখতুলে তাকায়। সেও চিনতে পারে। দু’য়ে দু’য়ে চারটা কালো চোখ একই সরলরেখায় একে অপরের দিকে স্থির অপলক তাকিয়ে থাকে। ডোরাকাটা কাঠের উপর স্থাপিত চলমান সমান্তরাল রেললাইনের মতো।

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop