লাল-সবুজের বাংলাদেশ ধারণ করেই সংহতি’র স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান

Share Button

আনোয়ারুল ইসলাম অভি:
GROUP PICS
বাঙালি যেখানেই যায় তার হৃদয়ে এক টুকরো বাংলাদেশকে নিয়েই যায় এবং লাল সবুজের পতাকাকে ধারণ করেই বাংলাদেশকে সবার উপরে রাখে। ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার পূর্বলন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংহতি’র স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে। বিকাল ৬টা থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠান মালায় যারা উপস্থিত হয়েছেন, হলফ করে বলা যায় তারা বাংলাদেশটাকে মনে ধারণ করেই বাড়ি ফিরেছেন!
NEROBOTHA PALON
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন, স্বরচিত কবিতাপাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংহতি’র মৌলিক কার্যক্রমের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সংহতি সাহিত্য পরিষদ উদযাপন করেছে মহান স্বাধীনতা দিবস ।
GITHE ALICKHO
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে- গীতিআলেখ্য ‘রুপান্তরের গাণ’ শিরোনামে দর্শকদের মাঝে উপস্থাপনে ছিল মুগ্ধকর আবহ। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন থেকে শুরু করে আরেক হীরন্ময় ইতিহাস মহান মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময় ও স্বাধীন বাংলাদেশের পটভুমিগুলো গাণ, কবিতা আর ধারাবর্ণনায় আবৃত্তিশিল্পী মুনিরা পারভিন দর্শকদের ধরে রাখতে পেরেছেন চমৎকার মুন্সিয়ানায়। কন্ঠশিল্পী শাহীনূর হীরক এর বাঙালির বীরত্বগাঁথা ও স্বাধীনতাযুদ্ধ সময়ের গাণগুলো জাগিয়ে রেখেছিল অন্যরকম নিস্তব্ধ ভালোবাসায়। আবৃত্তিশিল্পী শতরুপা চৌধুরীর আবৃত্তি ও গান দর্শকের মনে বলা যায় দেশ’টা অনুরণ দিয়েই গেছে। কবিতা আর ধারাবর্ণনায় জিয়াউর রহমান সাকলেন ছিলেন অনন্য। প্রায় একঘণ্টার পরিবেশনায় মুনিরা পারভিন বিচরণ করেছেন ইতিহাসের পাতা থেকে কুড়ানো লাল ও সবুজের বাংলাদেশ ও দেশের প্রিয় শব্দমালায়। পিয়াস ও সুমন এর যন্ত্রাবহে গীতিআলেখ্যটি পূর্ণতা পেয়েছে নিঃসন্দেহে।
KIRAN BRANDY PICS
দ্বিতীয় পর্বে মোহাম্মদ আহমেদ উল্লা’র সঞ্চালনায় সংহতি পরিচালিত ‘কমিউনিটি লিটারেটারী ফেস্টিভেল ২০১৫’- এর পুরস্কার প্রদান করা হয়। ‘পয়েট্রি’ শাখায় সেরা নির্বাচিত হন কবি কিরাণ ব্রানডি। ‘ড্রয়িং’ শাখায় সেরা নির্বাচিত হন-শান্তি রায়। বাংলা ও ইংরেজীতে তার চিত্রকর্মে তুলে ধরেছেন -ব্রিটিশ-বাংলাদেশী পরিবার।
‘আমি সত্যি খুব অভিভূত ও আমি সম্মানীত বোধ করছি-বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসে সংহতি সাহিত্য পরিষদ পুরস্কারটি এই রকম সুন্দর অনুষ্ঠানে আমাকে দেয়া হচ্ছে দেখে’ -দর্শকদের কাছে এভাবেই তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। সংহতি সাহিত্য পরিষদের ট্রেজারার হেলাল উদ্দিন ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক তুহীন চৌধুরী সম্মাননা পুরস্কারটি তার হাতে তুলে দেন। কবি কিরাণ ব্রানডি ‘পয়েট্রি’ শাখায় সেরা নির্বাচিত তার কবিতা ‘মাইন্ডফুলনেস’ এর পাঠ দর্শকদের প্রাণজ করেছে।
SHANTHI ROY PIC
‘আমি ব্রিটিশ বাংলাদেশী হিশেবে চেয়েছি- চিত্রকল্পে ব্রিট-বাংলাদেশ’কে তুলে ধরতে। বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়ে বাংলাদেশী পরিবার দেখেছি। আর এখানে তো আমি বাস করি। বাঙালিদের ফুল,পাখি,খাবার-দাবার, আসবাবপত্র, ঘরের ভিতরের দৃশ্য ইত্যাদি আমার চিত্রে তুলে ধরতে চেষ্ঠা করেছি’- ‘ড্রয়িং’ শাখায় সেরা নির্বাচিত নতুন প্রজন্মের চিত্রশিল্পী শান্তি রায় পুরস্কার হাতে নিয়ে তার অনুভুতি প্রকাশ করলে হলভর্তী দর্শকরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দিত করেছেন। সংহতি’র সাবেক সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন ও কবি এম মুশাইদ খান পুরস্কারটি তার হাতে তুলে দেন।
ODIENCE PIC
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল স্বরচিত কবিতা পাঠ। কবিতা পাঠ করেন- কবি মজিবুল হক মনি,ইকবাল হোসেন বুলবুল, জাহাঙ্গীর রানা, এ,কে এম আব্দুল্লাহ,এম মুশাহিদ খান,জামিল সুলতান, সাগর রহমান, মোহাম্মদ ইকবাল,আরাফাত তানিম, মিজানুর রহমান মীরু, মোহাম্মদ মুহিদ ও আনোয়ারুল ইসলাম অভি। কবিদের শব্দকল্পে উঠে এসেছে লাল সবুজের দুধভাতে বাংলাদেশ, প্রেম,দ্রোহ ,বিদ্রোহের বাংলাদেশ এবং দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা সূর্যমূখী একখণ্ড বাংলাদেশ এর প্রতিচ্ছবি ইত্যাদি।
PRESENTAR
ঘড়িতে তখন নয়টা ছুঁই ছুঁই। কবি তুহীন চৌধুরী সংহতি’র পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও মূলত অনেকেই মায়ার টানে থেকে যান।ফলত এই সময়টিও অনুষ্ঠান থেকে অউপভোগ্য থাকেনি! আমরা সবাই ফ্রেমবন্দি হই প্রিয় হেলাল উদ্দিন ও হান্নান ভাইয়ের ক্যামেরায়। সংহতির প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন- কবি সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম অভি।

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop