শাহনাজ সুলতানার গুচ্ছ কবিতা

Share Button

Shanaz-sultana

আর্তির ভ্রুণ

ভাইরাসের মরণব্যাদি আর্তির ভ্রুণ
ধীরে ধীরে ফণা তুলছে
ভেলেন্টাইন পার্কের সবুজপাতার ডানায়…
অদৃশ্য নীলব্যথায় নিত্যদিন ফেঁটে যাচ্ছে
আর্তির ভ্রুণ; চারপাশে কপিপেষ্ট প্রাণহীন
সংবাদের মেলায় চিরসত্য এ খবরও হারায়
বাইরে জমাটবাঁধা তুষারের পেয়ালায়।

ডানা

ইচ্ছের ডানাগুলো উড়ছে না আর
ডানারও থাকে নিজস্ব ভার
ধরা ছোঁয়ার বাইরে শূন্যপাহাড়
ইচ্ছের ডানা তুমি আসলে কার?

শূন্য করতলে জ্বলিও না দহন

নিয়মের আঁচল ধরে যেদিন এসেছে, প্রতিদিন ঘুরছি ফিরছি…একাকী বৃষ্টিমুখ ধরে নামছি অঝোর ধারায়! তবে কেনো আমার নিরীহ আত্মায় আগুনঝরে, হৃদয়াকুতি জোছনা রাতে অদৃশ্য কল্পনা অমবস্যায় ছেয়ে যায় নীলাকাশ? এ পথ জানা নেই বন্ধু… কারুকাজহীন সময়, বাস্তবতার তাগিদে কেবল-ই হেঁটে চলছি জীবনের মায়ায়
এ জনমে ক্ষমা করো…সব কথা হারিয়েছি চোখভর্তি স্বপ্নফুলে; কাক্সক্ষা জাগিয়ে ছুঁড়ে ফেলছি নীচে; শূন্য করতলে জ্বালিও না দহন

তীব্র আঁচ

ভালোবাসার তীব্র আঁচে জ্বলছে আমার এ-শহর,
প্রতিটি দিন পরিচিত নগরের বুকে উড়ছে ধুলো
বুক ছিঁড়ে উড়ে যায় নীরবতা,অচেনা মায়া

লক্ষ্যের ভেতর

দরজায় টোকা দিচ্ছে সময়, সময়ের গতিটাকে টেনে ধরতে ছুটছি স্বার্থপরের মতো, সময়ের সাথে বাড়ছে ব্যস্ততা। শীতের এ-শহরটাও কি আমার মতো দাঁড়িয়েছে ব্যালকুনিতে? নাকি শহরটাকে খুঁজতে হাঁটছে ইষ্টহ্যমের পথে…
কেন যে বারবার বলো- নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি না; শুধু বলি না, তোমাকে সারাক্ষণ ধরে রাখছি লক্ষের ভেতর।

বেদনার্ত বেলা

জলের ওপর সাজানো যায় সা কভ’ দৃষ্টি মালা
স্থলে আলোমগ্ন সময়ে দোলে কিছু মৌনধুলা
নীলকাশে পাখ-পাখালি আর বাতাসে খেলা
কোথায় হারাচ্ছে অপেক্ষা, সময়ের হেলাফেলা
তোমাকে বলছি শোনো- ওহো বেদনার্ত বেলা
কত অভিলাস টানছি, কত অনুভবে লুকাচ্ছি
অনুভবে পুড়াও বলে ভাঙছি না, একা দাঁড়াচ্ছি।

 

সময়

কোথায় যেন হারাচ্ছে মৌন সময়
কি করবো আমি, কবিতা লিখব?…
বিগত সময়, তোমাকে ভাবতে ইচ্ছে
করছে, আগামীর হাসি তোমার দিকে
যেতে- যেতে মনানুভবের স্মৃতিঘাতে
আশাগুলো শূন্য হয়ে গেলে!
জানি ছায়ায় বাঁধা যায় না ঘর, ছায়ার
ভেতরও বন্দি হয় পোষামনপাখি ,তাই…
নীরবে ’আশা’ শব্দটাকে তুলে রাখব দেয়ালে।

মন তো পাথর নয়

যা বুঝিনি কোনদিন, সে স্মৃতি কেন
হাৎড়ে চলি প্রতিনিয়ত নিজের ভেতর
ছদ্মবেশী এক অস্থিত্বের আনাগোনা
আনমনে ডাকে!… আমি সে অস্থিত্বে
পৌঁছাতে মরা জলে কাটছি সাঁতার

যা বুঝিনি কোনোদিন, সেও আজ ছন্দময়
যেন দূর থেকে আমাকে দেখছে অপলকে
এ- মন একবারই ছুঁয়ে যেতে পারে কেউ…
এ- মন একবারই লুকায় অন্য কোন খাঁচায়
মনের কী দোষ বলো বন্দি মন তো পাথর নয়…

এড়ানো যায় না

অন্ধকার কিংবা ঘুমের ভেতর
নীল আকাশ ও বেদনার ব্যবধান
আমি নিঃশব্দে এড়িয়ে চলি, আর
অপেক্ষা করি একটি সুন্দর সকালের
যেখানে স্মৃতি-বিস্মৃতি হানা দেবে না
গরম কফির আমেজে বিষাদ জমবে না

নীল আকাশ ও নীল ব্যবধান এড়িয়ে
চলি, কিন্তু নীল শাড়ি, চুড়ি গহনা
এড়াতে পারি না…
এড়াতে পারি না আনমনে গান গাওয়া

ফেরা

কোন আহবানে ঘরে ফেরার কথা বলছো অরণ্য
তার’চে চলো প্রচ্ছন্ন ছায়া ভরে একটানা হাঁটি
হাঁটতে হাঁটতে পাঠ করি আমাদের গল্পও প্রকৃতি

কোন আহবানে ঘরে ফেরার কথা বলছো দিগন্ত
তার’চে ভাল শরীর জুড়ে মিশে যাক হাওয়া
সময়ের গন্তব্য টেনে হাসুক বে- ভোলাস্মৃতি?

কোন আহবানে ঘরে ফেরার কথা বলছো তুমি?
যে ঘরে মিছে আরাধনা, অলিক মায়া, কাঁটাগ্রস্থ
হৃদয়, নিজের ভেতর খরতর নদী ও বোবামূর্তি।

চিহৃ

প্রতিদিনের মতো আজ সকালটাও
আনমনে কেটে গেল তোমার অপেক্ষায়
ভেতর-বাহিরে একটা ছটফটানি আসে
কেন যে এলে না তুমি?… না -ফেরার চিহেৃ
ধীরে ধীরে জমছে বিষাদের কফিন…

বর্তমান আর অতীতের পার্থক্য জমেছে অনেক
তারপরও এতো এতো মায়ানুভব ফুল ফুটে বাগানে
কাকে দেবো এইনা ফোটা ফুল? সে যে দূূরের পাখি
সে কি আর বোঝে পোড়ামন আর বোবা দেহের আকুতি।

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop