স্বঘোষিত ইশ্বর একবার মানুষের কাতারে দাঁড়ান

Share Button

12922057_10208883274460820_2108419785_o
জুয়েল রাজ

বাংলাদেশের ইতিহাসে সেনাবাহিনী নিজেদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে যে তাঁদের দিকে কখনো কোন বিষয়ে আঙুল তোলা যাবেনা। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী আমাদের অহংকার আমাদের গর্ব। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ্ব, সংবিধান, জাতির জনক, জাতীয় সংসদ, আদালত, বিচার ব্যবস্থা সব নিয়ে বাক স্বাধীনতা আছে। ইচ্ছামত বিতর্ক হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ্ব করা হচ্ছে। কিন্তু কোনভাবেই সেনাবাহিনী নিয়ে নয়।
আর সেই সুযোগে বারবার বাংলাদেশের কাঁধে সাওয়ার হয়েছে জলপাই রঙের ভূত।জাতির জনকের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান এর ক্ষমতা দখল। মুক্তিযুদ্ধ্বের মূল স্তম্ভকে ভেঙ্গে দিয়ে পাকিস্তানিকরণের দিকে যাত্রা। স্বৈরাচার এরশাদ এসে সেটাকে পাকাপোক্ত করে দিয়ে সংবিধানের মাথায় টুপি পরিয়ে দিলেন রাষ্ট্রধর্মকে।
সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম, আবেগ ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন অফিসার। বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সে পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনী, সাধারণ মানুষ এদের ভয় পায়। শ্রদ্ধা করেনা। কিন্তু তাঁরা মনে করে মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধা করে। তাঁরা নিজেদেরকে স্বঘোষিত ইশ্বর সাজিয়ে বসে আছেন। আমরা সেই ইশ্বরকে ভয়ে পূজা দেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তিকামী কৃষক শ্রমিক জনতার অর্জন। ৩০ লাখ শহীদের কতো লাখ সরকারী বাহিনীর কেউ জানতে চায়নি কোনদিন। কিন্তু যুদ্ধ্ব শেষে যাবতীয় অর্জন পদক সব চলে গেছে তাঁদের দখলে।
বাংলাদেশের আজকের অগ্রযাত্রায় ৭১ এর সেই খেটে খাওয়া মানুষেরাই রক্ত পানি করা পরিশ্রম করে চাকাকে সচল রেখেছে। অথচ বাংলাদেশের বাজেটের সবচেয়ে বড় বরাদ্ধটি সেনাবাহিনীর। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র একটি দেশের রাজকুমার আমাদের সেনাবাহিনী আমরা কোন প্রশ্ন তুলিনি কোনদিন। আমরা বলিনি আমাদের গরীব দেশে এমন ব্যয়বহুল বাহিনী আমাদের প্রয়োজন নেই। বর্তমান বিশ্ব জ্ঞান বিজ্ঞানের বিশ্ব।
সেনাবাহিনীর তাঁদের ইমেজকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চান। তাই তাঁদের কোর্ট মার্শাল নিয়ে আমরা কিছুই জানতে পারিনা। তাঁদের অপরাধ সাধারণ মানুষ জানলে তাঁদেরকে ভয় পাবেনা বা শ্রদ্ধা করবে না এই ভয় থেকে হয়তো গোপনীয়তা করেন। বঙ্গবন্ধুর খুনি কারা ছিল, জাতি জানে। জিয়াউর রহমান কতোজন মুক্তিযুদ্ধা অফিসারকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়েছেন জাতি জানে। মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড সহ এরশাদের কাহিনী ও জানে। মাঝে মাঝে মনে হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বুঝি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার জন্যই মুখিয়ে থাকে। এক এগারো তাঁর উজ্জ্বল প্রমাণ।
হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র সরঞ্জাম দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সেনাবাহিনী কে, দেশ , দেশের মানুষ কে রক্ষা করার জন্য। হাতের অস্ত্র ঘুম পাড়িয়ে রেখে শরীরের অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরেন যদি দেশের মানুষের উপর। হায় স্বঘোষিত ঈশ্বর! মানুষ কোথায় দাঁড়াবে?
জাতিসংঘ মিশন মিশন বলে আমরা গলা ফাটিয়েছি, আমাদের সেনাবাহিনী সেখানে ফাটিয়ে দিয়েছে। ফলাফল ? বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপর ধর্ষনের অভিযোগ। পার্বত্য অঞ্চলে শুধুমাত্র গত বছর ৮৫ জন আদিবাসী নারী ধর্ষিত হয়েছেন, অভিযোগের তীর সেনাবাহিনীর দিকে। সর্বশেষ সোহাগী জাহান তনু। সেনাবাহীনীর হৃৎপিণ্ড, সেনাছাউনীর ভিতরে কালভার্টের নীচে পাওয়া গেল তাঁর ধর্ষিত মৃতদেহটি। কুমিল্লা সেনানিবাস কি এর দায় কোনভাবে এড়িয়ে যেতে পারে? অবশ্যই না। সারা দেশের মানুষ আজ প্রতিবাদ মুখর। তনুর হত্যা ও ধর্ষণের বিচারের দাবীতে।
কুমিল্লা সেনানিবাস এখনো মুখে কলুপ দিয়ে বসে আছেন ধ্যানমগ্ন হয়ে, নিজেদের ইমেজ ধরে রাখতে। মানুষ বলছে বিচার চাই, বিচার চাই, কিন্তু ভয়ে সেনাসদস্যদের কথা মুখে বলছেনা। মাননীয় স্বঘোষিত ঈশ্বর কি তা বুঝেন?
৭১ এর ২৫ মার্চ কালোরাত থেকে আমার দেশের নারী, কারো কন্যা, জায়া, জননী, ধর্ষিত হয়ে আসছে। লক্ষ লক্ষ বীরাঙ্গনার চোখের জলে ধুঁয়া পবিত্র মাটিতে আর কোন নারী ধর্ষিত হবেনা, এমনটাই তো স্বপ্ন ছিল আমাদের।
পাহাড়ে ধর্ষিত ৮৫ জন নারী এই মাটির সন্তান, লাশ হয়ে যাওয়া সোহাগী জাহান তনু এই মাটির সন্তান আমাদের কন্যা কিংবা বোন। প্রতিটা ধর্ষনের বিচার চাই। মুখবুঝে থাকা নয়। বন্ধুকের নলের ভয় নয়। মানুষ জেগে উঠলে সব ভয় বাণের জলে ভেসে যায়। বাংলাদেশ বারবার তা প্রমাণ করেছে। সেনাবাহিনীর প্রতি বিদ্ধেষ নয়। সেনাবাহিনীকে আমরা ভয় পেতে চাইনা শ্রদ্ধা করতে চাই, ভালবাসতে চাই। সেই ক্ষেত্রটা তাঁদেরকেই তৈরি করতে হবে। নিজেদের ইশ্বর না ভেবে মানুষ ভাবুন। মানুষের কাতারে একবার এসে দাঁড়ান। দুইএকজন সদস্যের অপকর্মের দায় যেন পুরো সেনাবাহিনীকে কলঙ্কিত না করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk