আবদুল হাসিব

আবদুল হাসিব’র গল্প ‘ফাঁসিতে ফাঁকি’

   বসন্তের উন্মুখ কৃষ্ণচূড়ার ঢলমলে রঙের মতো ঝলমলে যৌবন ছিলো মহিমের। আর সে ছিলো আসন্ন বসন্তের মঞ্জুরিত মুকুল মাত্র। তবুও পঞ্চদশী এই কিশোরীর ডগমগে বাড়ন্ত শরীরে ছিলো পুরুষের চোখকে আকৃষ্ট করবার মতো এক ঐন্দ্রজালিক আকর্ষণ। তার মায়া মৃগাক্ষীর দিকে যখনই একবার থাকিয়েছে কেউ, অতৃপ্ত তৃষ্ণা রয়ে গেছে তার অনন্তকাল দেখবার। এই সেই রজস্বলা রূপশ্রীর প্রেমে মজে উঠে শ্যাম বর্ণের অষ্টাদশ বয়সী মহিম নামের এক সুদর্শন তরুণ। চলতে থাকে তারা দু’জনের নিরন্তর গোপন প্রেমাভিসার। আমার খুব মনে পড়ে। আমিও একদিন আলেয়া’কে ...

Read More »

আবদুল হাসিব এর একগুচ্ছ স্বাধীনতার কবিতা

আমি স্বাধীনতা আসতে দেখেছি আমি স্বাধীনতা আসতে দেখেছি। নয়টি মাস ব্যাপী গিরি নদী দুর্গম পথে ম্লান বিষন্ন বেশে রক্তাক্ত মূর্তিতে ব্যথিত পায়ে সে দিন আমি স্বাধীনতাকে আসতে দেখেছি। নয় বছরের বালক ছিলাম স্মৃতিতে ধারণকৃত অভিজ্ঞান থেকে এখনও বুকের ভিতর আতঙ্কের ভয়ঙ্কর চিৎকার উঠে ধর্ষিতা আর শিশুদের আর্তনাদ কানে ভাসে! বাতাস বিষাক্ত করা কান্নার ভিতর দিয়ে সে দিন আমি স্বাধীনতাকে আসতে দেখেছি। কবরের পাশে ভয়ে ভুলেও যাইনি কোন দিন অথচ, নয়টি মাস দিনে ও রাতে অগণিত গিয়েছি ভাঙা কবরের অন্ধ গর্তে ...

Read More »

ফাঁসিতে ফাঁকি

আবদুল হাসিব : বসন্তের উন্মুখ কৃষ্ণচুড়ার ঢলমলে রঙের মতো ঝলমলে যৌবন ছিলো মহিমের। আর সে ছিলো আসন্ন বসন্তের মঞ্জুরিত মুকুল মাত্র। তবুও প দশী এই কিশোরীর ডগমগে বাড়ন্ত শরীরে ছিলো পুরুষের চোখকে আকৃষ্ট করবার মতো এক ঐন্দ্রজালিক আকর্ষণ। তার মায়া মৃগাক্ষীর দিকে যখনই একবার থাকিয়েছে কেউ, অতৃপ্ত তৃষ্ণা রয়ে গেছে তার অনন্তকাল দেখবার। এই সেই রজস্বলা রূপশ্রীর প্রেমে মজে উঠে শ্যাম বর্ণের অষ্টাদশ বয়সী মহিম নামের এক সুদর্শন তরুণ। চলতে থাকে তারা দু’জনের নিরন্তর গোপন প্রেমাভিসার। আমার খুব মনে পড়ে। ...

Read More »

আমার চোখে তুমি

আবদুল হাসিব যতটুকু সুন্দরতায় শরৎ রাতের শুভ্রখন্ড মেঘ চুমু খায় আধখানা চাঁদের ঠোঁটে; যতটুকু সুন্দরতায় সকালের সোনালী সূর্য চুমু খায় ঝর্ণাধারার শিখরদেশে; যতটুকু সুন্দরতায় বসন্তে ব্যাকুল ভ্রমর ফুলে ফুলে আলিঙ্গন করে; যতটুকু সুন্দরতায় শ্রাবণ বরিষণ আনে শুষ্ক নদীর বুকে উত্তাল যৌবন; যতটুকু সুন্দরতায় পশ্চিম দিগন্ত চুমে বিদায়ী সূর্যের নরম কিরণ; ঠিক ততটুকু সুন্দরতায় আছো প্রিয়া আমার চোখে তুমি। মন্ট্রিয়ল , কানাডা।

Read More »

আমি আর কবে যাব

আবদুল হাসিব আমি আর কবে হেঁটে যাব মেটো পথে যেখানে শিশিরভেজা মরাঘাস আমার পায়ের গড়ালী জড়াবে ; কবে আর হেটে যাব আমার স্বর্ণ গ্রামে যার ধূলো বালি লেগে আছে এখনো গায়ে। কবে আর কুশিয়ারা জলে ভাসাবো শরীর কৈশোরের মত করে। আমি আর কবে যাব নদী তীরে সবুজ গালিচায় নরম রোদে বন্ধুর সাথে। আর কবে, কবে হবে তাসের আড্ডা বাঁশ ঝাড়ের নীচে ঝিরিঝিরি বাতাসে; কবে আর যাব আমি সমাগম সন্ধ্যায় কসবা বাজারে চায়ের দোকানে বন্ধুদের গল্পের আসরে। কবে আর বাড়ী ফেরা ...

Read More »

আর ঈর্ষা নয়

আবদুল হাসিব   অন্যের ভাল দেখলেই তোমার ঈর্ষা হয়? ওটাতো তোমার দোষ নয়; কেননা, এখনও যে তোমার নিবাস মরিচাধরা সনাতন ব্যবস্থাপনার অন্দরে। অতিসভ্যতার আলোর ঝিলিক তোমার চোখের তারারন্দ্রে এখনও স্পর্শ করেনি, তুমি আলোর মুখও দেখনি। সংগত কারণ, তোমার মনের বিকাশ ঘঠাতে বাঁধাগ্রস্থ হয়। নিরাশার কিছু নেই, আশার সঞ্চার কর মনে যৌবনে এখন তোমার রৌদ্রজ্জ্বল দুপুর; সংকীর্ণতার দেয়াল তোমাকে ভাঙতেই হবে, উচ্চ কথা মুক্ত ভাব, সুস্থ্য মন শান্ত ধ্যান তোমার হৃদয়ের ভান্ডারে পূর্ণ করে রাখতেই হবে। আকাশের মত উদার করতে হবে ...

Read More »

নিকুঞ্জে এসো

আবদুল হাসিব এসো প্রিয়া এসো দ্রুত পদব্রজে এসো প্রেমের ঐশ্বর্য নিয়ে তৃণাসনে বসো রাতের দ্বিপ্রহর এখন বেশি নাই নিশি নিয়ে এসো কুঞ্জে তুমি কল্লোলিত হাসি অস্থির চঞ্চল আমি নাই ধৈর্য আর কি এমন বাছা-বাছি কর কিসের বিচার কি দরকার তোমার রূপের চর্চার সেটা ছিল নেফেরতিতি ক্লিওপেট্রার জান তো বিরহের প্রহর কত কষ্টময় এমন দেরী করছো কেন এত কেন ভয় চলে এসো বেণী খুলে এলো মেলো চুলে যদি অনাবৃত দেহ থাকে তাও যাও ভূলে তোমার যদি ভয় হয় নূপুর শব্দ তুলে ...

Read More »

ওখানে ঘুম আসে না

আবদুল হাসিব ওখানে কিছুতেই ভাল করে ঘুম আসে না ইটে কাঠে কাঁচে কংক্রীটে গড়া এই শহর, রাতের গায়ে ক্লান্তির একটু ছোঁয়া লাগেনা শেষ প্রহরে সে হয়ে উঠে প্রবল মূখর। নিশিতে ওখানে নাই কোন শিয়ালের ডাক বাস ট্রাক লরী ট্রেইন শব্দের সমাহার, সহস্র বছর ধরে ডাকে শহরের নাক আসল জীবন নেই কেবলই পানাহার। ওখানে নীমের শাখা নেই নেই লক্ষীপেঁচা ওখানে শান্তির পথ নেই নেই শান্ত কথা, ওখানে নিশি রাতে চলে চরিত্র কেনা-বেচা ওখানে কঠিন কষ্ট আছে, আছে বুকে ব্যথা। অটোয়া , ...

Read More »

সর্বত্রই ভাসে

আবদুল হাসিব গ্রীষ্মে দেখিছি তোমায় আগুন অস্থির বর্ষায় কেটেছি সাঁতার তোমার বুকে শরতে মেখেছি শিশির পরম সুখে হেমন্তে দেখেছি ম্লান বিবস্ত্র শরীর শীতে দেখিছি তোমায় নিরব নিথর বসন্তে পরেছো তুমি শতরূপা শাড়ি ঋতুমতি হয়ে চোখ নিয়েছো যে কাড়ি ; তুমিহীন পরবাসে আঁখিতে নহর। আজ সাধ হয়; পুঞ্জিভুত ব্যঞ্জনায় প্রবল ইচ্ছার উদ্বেলিত উচ্চারণে তৃষার্ত শব্দ মালায় পুঁজিবো চরণে; পারি না যে, জীবনের শত বঞ্চনায়। অষ্টপ্রহর স্পর্শ লাগে বুকের পাশে, সর্বত্রই চোখের মাঝে স্বদেশ ভাসে। মন্ট্রিয়ল , কানাডা।

Read More »

বিদগ্ধ বিরহ

আবদুল হাসিব চোখ জুড়ে আছো তুমি বিভাসিত স্থীর শারদ রাতের শিশির স্নাত ষোড়সী, তোমার প্রণয় প্রার্থী হৃদয় অস্থির পারি না যে ভুলে যেতে স্বদেশী উর্বশী। দুর্গম পথ ডানা ভাঙা অক্ষম আমি ব্যাখ্যাহীন কঠিন কর্তব্যে রুদ্ধ পথ, ক্ষণে ক্ষণে আমার নিঃশ্বাস যায় থামি; তুমি ছাড়া চলে না আর শ্রান্ত এ রথ। তোমার খোঁপার জুঁই বুকের শাপলা নাকে শুভ্র-হলদে স্নিগ্ধ শেফালী ফুল, দু’হাতে মল্লিকা-কামিনী, তুমি উতলা; নিতম্বে জড়ানো পুষ্প বিমুগ্ধ বকুল; সীঁথি মাখা শিমুল-পলাশ-কৃষ্ণচূড়া স্বদেশ ত্যাগি নিঃস্ব আমি কপাল পুড়া। অটোয়া, কানাডা

Read More »
}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop