আবু মকসুদ

আবু মকসুদ এর ছড়া

  ফেরা ঝড়ের আভাস দেখেও যারা মুখ ফিরিয়ে রাখে ঝড় যখন উড়িয়ে তাকে নেবে বুঝবে বেদনাকে। সময় কিন্তু থাকবে না যে থেমে সময় চলে যাবে সঠিক সময় ফসকে যদি যায় পস্তাবে পস্তাবে। নিজকে যারা চিরস্থায়ী ভাব কিছুই কি হয় স্থায়ী পৃথিবীতে হাটছি আজকে যারা সবাই পরিযায়ী। যেতে হবে যাবার সময় এলে এটা মনে রেখো জীবন নদীর শেষ পারাপারে মানুষ হয়ে থেকো। যাবার আগে চিহ্ন রেখে যেয়ো মানুষ থাকার চিহ্ন মরার পরেও মানুষ থেকে যেনো না হও বিচ্ছিন্ন…।

Read More »

ধাবমান বিনয়ী বিষাদ

আবু মকসুদ ধাবমান মেঘে মেঘে ছেয়ে গেছে বিকেলের গাল বিপন্নতার আশঙ্কায় পাখি ঠোকে পাথরের ঠোঁট জেনেছি, লবণহ্রদে সাঁতার সেরে কতিপয় হাঁস অভিনয়ে পটুত্ব আনতে আয়নার আড়ালে দাঁড়ায় জানালায় জলের আলপনা আঁকে এক ঝাঁক মাছ আমি দুঃখ পেলে নড়ে উঠে কিশোরী আঙ্গুল দুরত্ব ডিঙিয়ে নিজেকে ভাবি মানুষ সমান বক্তার ভূমিকায় অবলীলায় শীর্ষে পৌঁছাই ষাড়ের সাথে লড়ি ,তবু আকাশে উড়তে ভয় গতিময় জীবন আটকে রাখে আহম্মক হাত এ পৃষ্টায় লাভের পাল্লা ভারী দেখে মাতোয়ারা উল্টো পৃষ্টার আঁধার, মাঠে নামে বিনয়ী বিষাদ।

Read More »

সন্ন্যাস প্রিয় খুচরো অন্ধকার

আবু মকসুদ আমিও সন্ন্যাস নিলে কিছু নারীবাদী পোষাক প্রসাধনে নিষিদ্ধ রাত্রিতে সলতে পাকায় পৃথিবীকে দ্যাখে চাঁদ অতি ুদ্র মানুষ মদিরায় মজে কতিপয় ডিগ্রিকে পেন্নাম করে সন্ন্যাসী প্রিয় অন্ধকারে খুচরো পয়সা জমায়, সফলতায় ঝুকে পড়ে অন্নের কাছে মাছি ভনভন দিন জীবিকার বাধ্যতায় সন্ন্যাসীও মেনে নেয় পাপ ও সাপের সহাবস্থান কতিপয় নারীবাদী ডিগ্রি ঝুলিয়ে মানুষের পাপপুণ্যের হিসাব কষে আমি দেখি, কিছু নদী উত্তরে বয়ে যায়।

Read More »

পোড়ে গেলে মধ্যরাত

আবু মকসুদ অপেক্ষায় গাঢ় হতে থাকে ভিতর প্রকৃতি শস্য-বিপাকে সূর্যাস্ত খুঁটে একাকী শালিক বিপরীত স্টপেজে মুঠো ভর্তি মাটি নিয়ে ডাকে রাতচরা পাখি, মধ্যরাত পোড়ালে পাশ ফিরে শোয় দিনের ব্যর্থ গল্প পাখির পাশের কলোনিতে থাকে সমাজ অসীম সম্ভাবনার বীজ নিয়ে ডানা মেললে শূন্যতায় স্মরণে আসে তিন ফোঁটা জন্মজীবন যে ঝরনা নদী হয় তার বুকে জমা কষ্টের কথা জানে চাঁদের পাড়ের গ্রাম ঢেউপাশা পিছু যদি তাড়া করে হলুদ লন্ঠন, বুঝি জীবন কাঁধে নিয়ে বেঁচে থাকা খুবই কঠিন।

Read More »

বিনত আবেদনপত্র

আবু মকসুদ কিছু কিছু মুখ আমাকে শিখিয়েছে, পর্দা উঠালেই যবনিকা পাত, আসলে কি তাই হাতড়ে হাতড়ে মানুষ তবে কোথায় পৌছায়? সারাজীবন বিনত ছিলাম, ঘর আর কলতলা, তবুও আবিষ্কারের আকাঙ্‌ক্ষায় বাতাস আড়াল করে ঠুসতে চেয়েছি দেশলাইয়ের শেষ কাঠি ওপারে মিঠামন্ডের যজ্ঞ হলে কানে তুলো গুঁজে নীল নাবিকের মতো নিজেকে ছুঁড়ে সমুদ্রের ফেঁপে উঠা জলে খুঁজেছি বাসস্থান । আমার আবেদনপত্রে কালাজ্বর ছাড়াও লিখা ছিলো স্বাগত সবুজ, পথের ভিখিরির চোখে পুরনো দালানের করুণ চৌকাট নিমগ্ন বিশ্বাসে মাড়াই মাঝরাতের যাবতীয় টিলা কঠিনেরে আলিঙ্গনে খুঁজি ...

Read More »

বনজ সৌরগৃহে

আবু মকসুদ বিষাদের মেঘে লুকানো থাকে ঘৃণার বীজ, অভিমানগুলো রূপান্তরের সৌরগৃহে। যেদিন আকাশে কেঁপে কেঁপে বৃষ্টি হবে সেদিনও মাঠেরা জানাবে ধানের আকাল কেউ ছেড়ে গেলে ইহলোকধাম, প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে ঝলকিত সময়ও হাঁটে স্থায়ী আবাসের খোঁজে। অতঃপর-বাবলা গাছে আটকে গেলে বেগুনি ওড়না আনন্দবিকেলে খুলে যায় অনিন্দ্য চুম্বনদ্বার সূর্যকে আধগলা মোম ভেবে যে ছাড়ে শামুকজীবন তার পকেটে অলৌকিক জ্যোৎস্না নামে, আসে রৌদ্রচিঠি স্বপ্ন প্রত্যাঘাতী মায়াময় ফুলের গন্ধে ফের নতুন গাছের সাথে জমে ওঠে পাখির আলাপ। সবকটি জীবনেরই উৎসব ফুরাবে একদিন, বনের বৃরাজি ...

Read More »

বীজের নামতা

আবু মকসুদ ঘুমিয়ে থাকা বীজটি দেখছে রূপান্তরের স্বপ্ন ওই পারে চলে যাচ্ছে নদী ট্র্যাফিক জ্যামে আটকা পড়েছে শহরের নাভী সম্পর্কের মাঝে থাকছে সাপের কুণ্ডলী চালসের গানে বিভোর বাইপাস বালক ফুঁয়ো বিড়িটির মুখে ঢালছে তীব্র দহন মাটি ও আকাশের অশেষ কৃপায় হাসপাতালের বিছানায় গড়ায় গ্রামের রোদ্দুর বিকেলের চা- লেমন ফেভার, বালক আবার যাবে শিকার উৎসবে। ঘরের আঙিনায় মন গায় পুষ্পকোরাস ফুলের সুখে সাজানো মায়াবী সংসার পুনরায় অরণ্যভূমিতে হারাবার বাসনায় জমায় মেঘের পরত। বিকল ট্রাফিক লাইটে থেমে যায় শহর, ধ্যান ভাঙা বালক ...

Read More »
}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop