ওয়ালি মাহমুদ

সময়ের প্রতিচ্ছবি- সাহিত্যের শৈল্পিক ভাষায়–কবি ওয়ালি মাহমুদ

  ওয়ালি মাহমুদ। নব্বই দশকের কবি। পুরো নাম মোহাম্মদ ওয়ালিউর রহমান মাহমুদ। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন জলঢুপ পাতন গ্রামের হোকনিয়া মহল্লার দেওয়ান ভিলা’য় ১লা আগস্ট, ১৯৭২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। লেখাপড়া- সিইএলটি, টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজ, লন্ডন, ২০০১ সালে। ১৯৮৬ সালে দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম লেখালেখির হাতে খড়ি। কাব্যের জগতে কখনো গদ্যের তীরে হাঁটতে হাঁটতে কুশিয়ারা, কখনোবা পদ্যের তীর ঘেঁষে সুনাই অথবা বিলেতের টেমস অবধি। নিয়মমাফিক বৃত্তের বাইরে স্বতন্ত্র অবস্থানের পুন:পুন: প্রচেষ্টায় মলাটবন্দী কাব্যের পঙক্তিমালার সযত্ন সৃষ্টি, কবিতাকে চিনিয়ে দেয় ...

Read More »

ওয়ালি মাহমুদ’র কবিতা

সুদীর্ঘ শব্দ-কথা স্বপ্ন-শুমারির দিনে কবিতারা জেগে থাকে প্রান্তিক স্বজনেরা হাত বাড়িয়ে রেখে দেয় নিঝুম পাঠ-প্রকাশের পয়মন্ত বেলায় সভার বিকেল হলে তবুও জমিয়ে রাখে..। হে জন্মভূমি আমার- যার বুকে জীবনের তিরিশ বছর জমা রৌদ্র ঢাকা, নৈ:শব্দের দুয়ার খোলে চেয়ে থাকা, যেন বা প্রিয়তমা মৃত্তিকায়-বেড়ে ওঠা-পথে দেশের কাছে জীবনের অনেক ঋণ যে গ্রামটি সুদীর্ঘ, হে শব্দ-মিতা আসবে সুদিন, শুধিবার দিন চির সবুজ প্রকৃতির পরিসরে দেখে রাখি মাঠ-ঘাট-শৈশব সব বাঁধা-ই সরিয়ে ভালবাসায়-সংহতিতে ভরা প্রিয় স্বদেশ একদিন শরদিন্দু ছাড়িয়ে আমিও যে কোল নেবো, আশ্রিত ...

Read More »

অষ্টপ্রহর জুড়ে মৃত্তিকার ধূসর পরিধি

ওয়ালি মাহমুদ শুনছো সুনাই, লুলার জটরে ভাসে বেহুলার ভেলা। এখানে বাড়তি জলের তলে জল। রৌদ্র বিম্বিত হয়ে তরঙ্গে নামে, আর গড়ে উঠে কানাকানির বাজার। থৈ থৈ স্রোত ভেঙ্গে তীরে এসে বিশ্রামে মজে, কবিতার অষ্টপ্রহর। ওখানে তুমি কে পুরুষ? অসীম আকাশ দেখার চেষ্টা করো সসীম আন্ধা চোখে। পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুচরে আর হাঁটতে যাইনা। শুধু হাত রাখি। হৃদয়ের মরমী অংশে আমার গ্রহন লেগেছে। যেমন, অতীতের বিপরীতে প্রবাস ফেরত কোন, হোদ্দর বর্তমান হাত রাখে হাতে। এক এক করে অধ্যায় স্থান নেয়, সাদা কাগজের ...

Read More »

তত্ত্বের উপাত্তে অদৃশ্য নিরন্জন

ওয়ালি মাহমুদ পড়শীনগরের মারেফত মহল্লায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে বপন করি- দেহ তত্ত্বের বীজ। হায়া-শরম পানি ঢালে ঝুরি মাঠির চারিদিকে। গরছি দিয়ে বেড়া দেয় তত্ত্বকথা। লম্বালম্বি সূর্যালোকের আয়তক্ষেত্রটি প্রার্থনা করে রুহের রূহানীর। তুরপাহাড়ের শীর্ষ-দেশে আশ্রিত হয় আমার কবিতার নিগূঢ়তত্ত্ব। উপাত্ত সাগরের ঢেউয়ের উপরে বসে কল্পনার রাইয়ত। বীজটি এখন ’পরাহ্নের চারা হয়ে ফুলের আশায় পন্থ পানে চেয়ে থাকে। ভ্রমরার বংশ লতিকায় বাঁধে দুল, নাকেতে নোলক। মুসা নবী বেহুঁস হইন, শুইয়া রইন, দেখিয়া দয়ালের ঝলক। ও কবিয়াল, কি কথা লিখ তুমি রোধস্-এ বসি। অন্ধকার ...

Read More »

বীরাঙ্গনার অটোবায়োগ্রাফী

ওয়ালি মাহমুদ ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো’- দলবদ্ধ শ্লোগান শুনি। আমি জিগাই- স্বাধীনতা, তুমি কেমন আছো? আর আমি? এক ধ্বংসের মাঝে বেঁচে আছি। সমাজ আমারে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়ে দ্যায়- সে তো বীরাঙ্গনা। আমার অপরাধ- আমার স্বামী যু্দ্ধে গেছে। কিন্তু কই? তাদের তো দেখায়না, যাদের জন্য পবিত্র শরীরের বসন টেনে-ছিঁড়ে কলংকের বসন পরায়ে দিল। আমার জীবনের সেই অভিশপ্ত কাহিনীর স্বীকৃতি দেয়া হল। আমিও তো মানুষ। আমারও একটা মন ছিল। জীবনকে সাজাবার সাধও ছিল। স-ব নষ্ট হল। স্বপ্নগুলো পুড়ায়ে দিল। স্বাধীনতা দিবস আসে, ...

Read More »

মোহনার খোঁজে

ওয়ালি মাহমুদ এই আমিও হাঁটি পুলাছড়ার পানি ভেঙ্গে তালে তালে, মোহনার খোঁজে। টিলাগুলোকে নাইয়ে যে স্রোত অন্ধ- নদীর জন্য। সেই দাদাবদিখা’র আমল হতে কিংবা আরও…। ক্রমবর্ধমান ইচ্ছা এখর হাটু হতে পায়া’র দিকে নামে। একপাশে পূনর্নিমানে ব্যস্ত শতাব্দী প্রাচীন বাঘমারা জামে মসজিদ। অন্যপার্শ্বে মৃত্যু হচ্ছে ফলিত শষ্যের। পৌষমাইয়া কামলার ঘামে দলিত হয় সদ্য প্রয়াত আমনের বুক। ছড়াহাটা মানুষটি তবু্ও থেমে নেই। অনুভূতির নিকট সমতলের গভীরতা ধীরে ধীরে বাড়ন্ত মনে হচ্ছে। মোহনা আর কত দুর? থামলেন। থেমে এমনতরো দৃষ্টিতে দেখলেন, যেন জনমের ...

Read More »

কবুল এবং শংকামুক্ত সম্পর্ক

ওয়ালি মাহমুদ অর্পিত অনুরোধ রাখতে পারিনা, তাই তোমার এতো অনুযোগ। পুড়েছে গহীন বলো-শুধু কি গহীন? আমি তো বলেছি,  আমি যে ভিন। করবির পাপড়িতে কুসুম ফোটে কি ফোটেনি দেখিনি যে চেখে। এতো কথামালার বিবর্ণ বেলা, কি গিয়েছি রেখে? বুকের আঙ্গিনায় যে ’নু আমার ধন। সুখের লাগি আমিনু হে, সপি দেহ-তনু-মন। যদি নদীর স্বচ্ছ ঢেউ’র জন্য বলতে পারি ভালবাসি। বৃষ্টির এক ফোটা কণার জন্য বলতে পারি ভালবাসি, তাহলে কেন পারবনা বলো হে  অনুক্ত অভিমানী। [ .. ] আমার সিনায় ভরে, হৃদয়ের কম্পিত ...

Read More »

ভাসান পরগনায়

ওয়ালি মাহমুদ আকাশের দামী মেঘ চিরে, হেলে থাকে সূর্য্যালোক এ বেলা দেখে আসা দিগন্তে খুঁটিহীন নীল ছাদ শষ্য’র অনির্ধারিত উৎসমুখ, সত্য প্রবাদ সুস্পষ্ট আলোয় থাকা সুদূর, দুর্বিনীত সবাক। নাতিশীতোষ্ণ নিম্ন অঞ্চলের পৌষমাস এখন রচনা দৃশ্যে অভিমানের ঘোমটা তোল- সুকৃতি এখানেও হাড়ভাঙ্গা দর্পন ছিল, ছিল বিস্মৃতি বুনিয়াদী সম্প্রীতি গড়ে যৌবন; করে মেহমান। পথের ধারে সেইসব জন বাসা বদল করে দ্বীনতার মধ্যে পুরান মধ্যমা নেই, বিলক্ষণ অবদান সকলের হাতে দিয়ে, দাঁড়ায় প্রবীণ লোকালয়ের লোকায়ত আকুতি, নিত্য সরে। জনম মাঠির শত নিবেদন, পড়ে ...

Read More »
}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop