চন্দ্রমুখীও ছিল একদিন

Share Button

Yasmin-Polin
ইয়াসমিন মাঝি

আমার বুকের কাছে অত্যন্ত নিবিড় গভীর ঘুমে
অচেতন আমার সন্তান,
আমার একমাত্র উত্তরাধিকার।

চন্দ্রমুখীও ছিল একদিন-
আজ বুকের কাছ থেকে সরে গেছে দূর অতিদূর
সুদূর নীহারিকা দীর্ঘ বিষাদের গল্প কয়ে !
আমি জেগে থাকি নক্ষত্রের মত রাত্রির গহ্বরে
ভেজা কাঁথা বুকে চেপে মেটাই রাত্রির পিপাসা
পরম আহ্লাদে জড়িয়ে ধরি শিশুর নরম শরীর
তুলতুলে গাল, চুম্বনে ভরিয়ে দেই আপাদমস্তক

স্বপ্ন ওড়ে, উল্লাসে কাঁপে সমস্ত জনপদ
স্বপ্ন গুলো সিঁড়ি ভাঙার স্বপ্ন দেখে,
স্বপ্ন গুলো স্বপ্ন বোনার স্বপ্ন দেখে,
স্বপ্ন গুলো ভিজিয়ে শরীর
স্নান করে ডুব-সাঁতারে।

এমনি একটি স্বপ্ন চন্দ্রমুখীও দেখেছিল একদিন
মায়ের চোখে, যখন ঈশ্বরের শকুন চোখ তাড়া
করছে তার মাকে, মা দেখছিল করুন আর্তিতে
ঈশ্বরের মুখ কিন্তু; ঈশ্বর দেখেনি মাকে,
মা দেখছে চন্দ্রমুখী চলে যাচ্ছে-
সন্তানের মুখ চাপা পড়ে যাচ্ছে ভুমির নিচে
বুক থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে মায়ের
সইতে না পেয়ে, মা লাফিয়ে পড়লেন
ঈশ্বরের স্পর্ধা থামাতে;
ভুমিকম্পের মত অনুষ্ঠিত একটি দুর্ঘটনায়
চন্দ্রমুখী, আমাদের সবার – সবার হয়ে গেল
চন্দ্রমুখী এখন আমাদের স্নেহের পরশ টেরাকোটা
প্রাণের এপিটাফ ।

প্রভাত আসে, চন্দ্রমুখীও আসে
মায়ের গভীর ক্ষত গভীরতর অসুখ মুছে দিতে একদিন;
মা তার দৃষ্টি বাঁধে দিগন্তের শেষ সীমানায় ঈশান কোণে
রামধনুকের খোঁজে,ঝোপে জঙ্গলে, বুনো বাতাস
হরিণের চকিত চোখে, পাখির ডানায়
ধান শালিকের ঠোঁটে। অতঃপর আমি খুঁজে পাই-
আমার চন্দ্রমুখীরে আমার বাংলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop