গুপ্তচর ছিলেন কবি-সাহিত্যিকরাও

Share Button
images

মনির তালুকদার :

বিশ্বখ্যাত কবি-সাহিত্যিক কিংবা বড়লেখক হয়েও গুপ্তচরের ভুবনে বিচরণ করেছেন অনেকেই। বিশ্বসাহিত্যের এমন কিছু দিকপালের নাম এই তালিকায় রয়েছে, যারা জীবনের কিছু সময় হলেও গুপ্তচরবৃত্তির সাথে নিজেদের ব্যাপৃত রেখে ছিলেন। এদের মধ্যে ক্রিস্টোকার মারলো, স্যার কম্পোটন ম্যাকেনজি, ড্যানিয়েল ডিফো, ডেভিড কর্নওয়েল, এরস্কাইন চাইল্ডার্স, গ্রাহাম গ্রিন।
বিশ্বখ্যাত কবি-সাহিত্যিক কিংবা বড়লেখক হয়েও গুপ্তচরের ভুবনে বিচরণ করেছেন অনেকেই। বিশ্বসাহিত্যের এমন কিছু দিকপালের নাম এই তালিকায় রয়েছে, যারা জীবনের কিছু সময় হলেও গুপ্তচরবৃত্তির সাথে নিজেদের ব্যাপৃত রেখে ছিলেন। এদের মধ্যে ক্রিস্টোকার মারলো, স্যার কম্পোটন ম্যাকেনজি, ড্যানিয়েল ডিফো, ডেভিড কর্নওয়েল, এরস্কাইন চাইল্ডার্স, গ্রাহাম গ্রিন। এছাড়া ও অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডস ওয়ার্থ ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের সাথে যুক্ত থেকে বেশ কিছুদিন গুপ্তচরবৃত্তি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। অবশ্য এ বিষয়ে তাদের কারো কারো স্বীকারোক্তি আছে- আবার কারো নেই। তবে এমন কিছু তথ্য প্রমাণ তাদের সম্পর্কে জানা যায়, যাতে ধারণা করা মোটেই অসম্ভব নয়, তারা গুপ্তচরের জগতে বিচরণ করেছিলেন।

উইলিয়াম ওয়ার্ডস ওয়ার্থ: উনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ইংরেজ রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডস ওয়ার্থ প্রকৃতির কবি হিসেবেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। বিশ্বজোড়া এ সুখ্যাতি তাকে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নকারী ওই মহান কবি ছিলেন পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান। ১৭৯৮ সালে বন্ধু কবি স্যামুয়েল কোলরিজের সাথে যৌথ প্রচেষ্টায় লিরিক্যাল ব্যালেড প্রকাশ করে ইংরেজি কাব্য সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার লিরিক্যাল ব্যালাড ও ড্যাফোডিলস প্রকৃতি প্রেম বন্দনায় উদ্ভাসিত। এখানে প্রকৃতি যেন তার কবি আত্মার, কবি মানসের চিরন্তর সুর গেয়ে উঠেছে। এ সময়ে তিনি গ্রাসমেয়ারের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘ নয় বছরের ওই বসবাস তার কাছে ধীরে ধীরে বিষাক্ত হয়ে ওঠেছিল। কারণ এখানে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাতে পায়ে খিল ধরার অবস্থায় পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৮০৮ সালে তিনি ওই বাড়ি ত্যাগ করেন। গ্রাসমেয়ারের ওই বাড়ি আজো পর্যটক তথা ভক্তদের শ্রেষ্ঠদর্শণীয় স্থান হিসেবে পরিগণিত। প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার পর্যটক সেখানে ভ্রমণ করে। তার রাজনৈতিক আত্মজীবনচরিত দ্য প্রিলুইড-এ সময়ের রচনা। অসংখ্য কবিতা এবং উৎকৃষ্ট সনেটের মাধ্যমে তিনি প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ এক কথায় যাবতীয় সৌন্দর্যকে কাব্যময় করে তুলেছেন। ছন্দোবদ্ধ বাক্যের গাঁথুনির চমৎকারিত্ব সৃষ্টিতে কবি ওয়ার্ডস ওয়ার্থ অসাধারণ কবিত্ব শক্তির পরিচয় দিয়েছেন।

ওয়ার্ড ওয়ার্থের গ্রাসমেয়ারের বাড়িকে কেন্দ্র করে তার সমুদয় সাহিত্যকর্মকে একত্রীকরণের জন্যে ১৮৯১ সালে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়। বাড়িটি বর্তমানে মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, প্রায় ৫০ হাজার পান্ডুলিপি, বইপুস্তক সেখানে সংরক্ষণের জন্যে দু’টি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু লেক ডিস্ট্রিক্ট ন্যাশনাল অথরিটি মনে করে ওয়ার্ডস ওয়ার্থের যাবতীয় সাহিত্যকর্মকে সংরক্ষণের জন্যে ওই স্থানটি উত্তম নয়। ওই অথরিটির একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে- ট্রাস্ট কর্তৃক নির্মিত টাওয়ারগুলো নিতান্ত সাদামাটা।

উচ্চপদস্থ অফিসার রাকেন লাথম্যান মনে করেন এটি কেসউইস, অ্যামব্লেসাইড বিশ্ববিদ্যালয় বা লন্ডনের যেকোনো বিল্ডিংয়ের চেয়ে দৃষ্টিনন্দন নয় এবং এখানে যে সংগ্রহ তা রাখার অনুপযোগী। কবির অভিভাবক স্থানীয় এক ব্যক্তি লিখেছেন- দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ টু মাচ উইথ আচ, লেট অ্যান্ড সুন। গেটিং এ স্পেন্ডিং, উই লে ওয়েস্ট আওয়ার পাওয়ারস। ওয়ার্ডস ওয়ার্থ ট্রাস্টের কমার্শিয়াল ম্যানেজার ব্রিয়ান এটন বলেছেন, আমরা এটিকে শিল্পকারখানার অংশ হিসেবে মনে করি না। তবে এখানে অত্যাধুনিক এয়ারকুলার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে কারো বিতর্ক নেই এবং লন্ডনে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়ার্ডস ওয়ার্থের ওপর বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক কেনিথ জন স্টোন ওয়ার্ডস ওয়ার্থের জীবনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সংবলিত হাজার পৃষ্ঠার একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন। ওই গ্রন্থটিতে বলা হয়েছে, ওয়ার্ডস ওয়ার্থ একজন গুপ্তচর ছিলেন। বিদেশের মাটিতে অবস্থানকালে তিনি ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করেছেন। ব্রিটেনের যেসব শিক্ষাবিদ এই গ্রন্থটির প্রুফ কপি দেখেছেন তাদের প্রতিক্রিয়া উৎসাহব্যঞ্জক। বইটিতে বলা হয়েছে, তিনি ফরাসি বিপ্লবের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং সে সময়কার বিপ্লবী কবি সাহিত্যিকদেরও তার অনুগামী করেছেন। অধ্যাপক জন স্টোন তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির যেসব অভিযোগ এনেছেন তা বিশেষজ্ঞ মহলকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছেন। কারণ এর প্রমাণ হিসেবে এমন কিছু তথ্য আবিষ্কার করেছেন যা ফেলে দেয়ার মতো নয়। এর মধ্যে একটি হলো ফরাসি বিপ্লবের অব্যবহিত পরে ১৭৯৯ সালে জার্মান সিক্রেট সার্ভিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় একটি ড্রাফ ওয়ার্ডস ওয়ার্থের নামে তারা পরিশোধ করে। ১৭৯৯ সালের ৪ এপ্রিল ফোর্ড ৬০ সিলিং, ১১ এপ্রিল ফোর্ড ২০০ সিলিং, ১৩ এপ্রিল ওয়ার্ডস ওয়ার্থ ১০০ সিলিং, ১৫ এপ্রিল ফোর্ড ১৭০ সিলিং-এর ড্রাফ স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রধান ডিউক অব পেটি ল্যান্ডের জার্নালে জমা দেয়া মোটা অংকের অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত এন্ট্রি তুলে ধরে। এন্ট্রিতে কবি ওয়ার্ডস ওয়ার্থের সাথে আরো দু’জনের নাম রয়েছে। একজন ছিলেন জার্মানিতে অবস্থানরত হামবুর্গে ব্রিটিশ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কাউফোর্ড। অন্যজন ছিলেন কবির বন্ধু কবি স্যামুয়েল কোলরিজ। জার্নালটি পাঁচমিশালি পত্রিকার একটি ভলিউমে ছিল। ১৯৯৩ সালে গ্রাসমেয়ারের ওয়ার্ডস ওয়ার্থের বাড়ির সামনে ভলিউমটি বিক্রি হলে সেই জার্নাল ও এন্ট্রির কথা প্রকাশ পায়। তবে অধ্যাপক জন স্টোন এ কথাও উল্লেখ করেছেন, নজরদারির জন্যে যে এজেন্টকে নিয়োগ করা হয়েছিল, তিনি যেরূপ আশঙ্কা করে ছিলেন- হয়তো সে ধরনের কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে এরা ভিন্নমতাবলম্বী ইংরেজদের একটা গোষ্ঠী মাত্র। তবে যে কোনো সময়ে ঝামেলা বাঁধাতে পারে। নজরদারির কারণে সরকারি খাতায় ওয়ার্ডস ওয়ার্থের নাম চিরস্থায়ীভাবে লেখা হয়ে যায়, তবে ঘটনাটা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। অধ্যাপক জন স্টোন তার গবেষণায় বলেছেন, সম্ভবত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কোনো ভাবপ্রবণ সংস্থা ওয়ার্ডস ওয়ার্থের জার্মানিতে অবস্থানকালে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছিল। তবে জন স্টোন এও উল্লেখ করেছেন, জার্মানির মাটিতে অবস্থানকালীন সময় ওয়ার্ডস ওয়ার্থ জোসেফ অ্যান্টোইন দ্য লিউটার নামের একজন পরিচিত স্পাইয়ের সাথে ঘোরাঘুরি করেছেন।

দলিলে কাউফোর্ড এবং ফোর্ড ছাড়াও ওয়ার্ডস ওয়ার্থের নামে ১০০ পাউন্ড পরিশোধের কথা ছিল। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা ওয়ার্ডস ওয়ার্থ জার্মানিতে অবস্থানকালে পররাষ্ট্র দফতরের মেসেঞ্জার সার্ভিসের জন্যই হয়তো বা ওই খরচটি হয়েছিল।

অধ্যাপক জন স্টোন অবশ্য তার গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণস্বরূপ আরেকটি কথাও দাঁড় করিয়েছেন। তা হলো- ওয়ার্ডস ওয়ার্থের বোন ডরিথি বিবেকবুদ্ধির পরিচায়ক যে জার্নালটি প্রকাশ করতেন, তা ১৭৯৯-১৮০০ সালের মধ্যে একটি সংখ্যাও বের হয়নি। তার ধারণা ওয়ার্ডস ওয়ার্থ ওই সময়ে গুপ্তচর বৃত্তিতে লিপ্ত ছিলেন এবং সে কারণেই ডরিথি ওই সময়ে জার্নালটি বের করতে পারেননি। অধ্যপক জন স্টোন আরো উল্লেখ করেছেন, ওই সময় ওয়ার্ডস ওয়ার্থ এবং ডরিথি কি কাজে ব্যস্ত ছিলেন সে সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডপত্রও নেই। ওয়ার্ডস ওয়ার্থ জার্মানি থেকে ফিরে এসে ডানপন্থী রাজনীতির দিকে আরো ঝুঁকে পড়েন। এর ৫ বছর পর ওয়ার্ডস ওয়ার্থ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৫ সন্তানের পিতা হন তিনি।

অধ্যাপক জন স্টোনের ওই গবেষণার মূল ভিত্তি আসলে পাবলিক রেকর্ড অফিসে রক্ষিত পুলিশের এন্ট্রি বুক। তিনি অবশ্য মনে করেন গুপ্তচর হিসেবে চাঞ্চল্যকর কিছু করার ক্ষমতা ওয়ার্ডস ওয়ার্থের ছিল। তিনি বলেছেন, ওয়ার্ডস ওয়ার্থ যে গুপ্তচর ছিলেন, এটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ক্রিস্টোফার মারলো: ষোড়শ শতাব্দীর বিশিষ্ট নাট্যকার ক্রিস্টোফার মারলো ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করেন। রাণী প্রথম এলিজাবেথের মুখ্যসচিব এবং ব্রিটেনের জাতীয় সিক্রেট সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফ্রান্সিস ওয়াল সিঙ্গাম তাকে রিক্রুট করেছিলেন। তার গুপ্তচরবৃত্তির প্রধান টার্গেট ছিল রিফর্মেশনের বিরোধিতাকারী ক্যাথলিক সম্প্রদায়। ক্যাথলিক সমর্থকদের পরিচয় নিয়ে তিনি ফ্রান্স ও অন্যান্য দেশে তৎপরতা চালিয়েছিলেন। ১৫৯৩ সালের মে মাসে তিনি বন্দী হন এবং জামিনে মুক্তি পান। এর কিছুদিন অব্যবহিত পর তাকে দক্ষিণ লন্ডনের এক সুড়িখানায় হত্যা করা হয়। হত্যার কারণ জানা যায়নি। ধারণা করা হয় সম্ভবত তাকে ডাবল এজেন্ট হিসেবে সন্দেহের কারণে হত্যা করা হয়েছিল।

স্যার কম্পটন ম্যাকেনজি: স্যার ম্যাকেনজি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে গ্রিস ও সিরিয়ায় ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এম আই-৬ এর এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হুইস্ক গ্যালোরের লেখক হিসেবে সর্বাধিক আলোচিত ছিলেন। লন্ডনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্যার বেসিল জাহারফেরের অভিযোগ ছিল তাকে কখনো ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল না। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘গ্রিক মেমোরিজ-এএমআই-৬’ সংক্রান্ত কিছু কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে ১৯৩৩ সালে তাকে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করা হয়। ওই শাস্তির জবাবে তিনি ‘ওয়াটার অন দ্য ব্রেইন’ রচনা করেন, যা হচ্ছে গোয়েন্দা সার্ভিসগুলোর ওপর অসাধারণ সুন্দর এক ব্যঙ্গাত্মক গ্রন্থ।

ড্যানিয়েল ডিফো: অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ব্রিটিশ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুপ্তচরদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ড্যানিয়েল ডিফো। তিনি তার অমর গ্রন্থ রবিনসন ক্রুসো, মোল ফ্যালান্ডার রচনার মধ্য দিয়ে সুখ্যাতি অর্জন করেন। জ্যাকোবাইড অর্থাৎ রাজা দ্বিতীয় জেমস সমর্থকদের মধ্যে অনুপ্রবেশে তার মতো দূরদর্শী খুব অল্পই ছিলেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে রাণী অ্যান বেশ কিছু সম্মানজনক অথচ গুপ্তকার্যক্রমে তাকে নিযুক্ত করেছিলেন। রাণী অ্যানের উত্তরসূরি রাজা প্রথম জর্জের আমলে তাকে সরকারের প্রধান সিক্রেট এজেন্ট হিসেবে সারাদেশ ঘুরে দেখতে পাঠানো হয়েছিল। তিনি ছদ্মবেশে ঘুরে বেরিয়ে অন্যান্য গুপ্তচর সংগ্রহ করেছিলেন।

ডেভিড কর্নওয়েল: ডেভিড কর্নওয়েল একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক। তার বইয়ের পেপার কভারে পরিচিতির জায়গায় প্রায়ই উল্লেখ করা হয়ে থাকে তিনি পাঁচ বছর ব্রিটিশ ফরেন সার্ভিসে ছিলেন। আসলে এর দ্বারা তার এমআই-৬ ক্যারিয়ারের কথাই বুঝানো হয়ে থাকে। এ হলো একটা অপ্রিয় ব্যাপারকে ভদ্রস্থ করে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা। ১৯৮৩ সালে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ডেভিড কনওয়েল বলেছিলেন, আমি মাতাহারি ছিলাম না। হিটলারের চার্চিল ছিলাম না। কিন্তু আমি যদি ভালো করার চেষ্টা করি যে সমারসেট মম, গ্রাহাম গ্রিন এবং আরো লেখকের মতো আমি কিছুকালের জন্যে ওই কাজে নিয়োজিত ছিলাম না, তাহলে সেটা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় হবে। এমআই-৫ এর সাথে কিছু দিন কাজ করার পর কর্নওয়েল এমআই-৬ এ যোগদেন। তাকে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে জার্মানির বল-এ পাঠানো হয়েছিল।

এরস্কাইন চাইল্ডার্স: ক্লাসিক গোয়েন্দা উপন্যাস দ্যা রিডল অব দ্যা স্যান্ডর রচয়িতা এরস্কাইন চাইল্ডার্সও একজন গুপ্তচর ছিলেন। ১৯০৩ সালে তার এই বিখ্যাত গ্রন্থটি প্রকাশ হওয়ার পর ব্রিটিশ নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ তাকে রিক্রুট করেছে। দ্যা রিডল অব দ্যা স্যান্ড এ তিনি জার্মানির ক্রমবর্ধমান নৌশক্তির বিপদ সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছিলেন। নৌবাহিনী জার্মানির উপকূল সংক্রান্ত তাদের পুরনো চার্ট বদলানোর ব্যাপারে চাইল্ডার্সের সাহায্য চান। চাইল্ডার্স আইরিশ জাতীয়তাবাদের সমর্থক ছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বেধে যাওয়ার আগে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগে থাকাবস্থায় তিনি অস্ত্র-শস্ত্রসহ একটি প্রমোদতরীতে করে আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণে পালিয়ে যান। ১৯৯২ সালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গ্রাহাম গ্রিন: দ্য কনফিডেন্সিয়াল এজেন্ট এবং দ্য থার্ডম্যান গ্রন্থের রচিয়তা গ্রাহাম গ্রিনও গুপ্তরচরবৃত্তির সাথে যুক্ত ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে গ্রিন লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এমআই-৬ তাকে রিক্রুট করে। অতঃপর গ্রিনকে সিয়েরালিওনে পাঠানো হয়। সেখানে গুপ্তরচরবৃত্তির ফাঁকে তিনি মিনিস্ট্রি আর কিয়ার এবং দ্যা হার্ট অব দ্যা ম্যাস্টার নামে দু’টি গ্রন্থ লেখেন। গ্রাহাম গ্রিন তার বন্ধু কিম ফিলবির আত্মজীবনী মাই সাইলেন্ট ওয়ার-এর মুখবন্ধে লিখেছিলেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে দেশের চেয়ে বড় কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। পরে এমআই-৫ এর পক্ষ থেকে এমআই-৬ কে বলা হয়, আওয়ার ম্যান ইন হ্যাভানা বাইটির মধ্যে কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করার দায়ে গ্রাহাম গ্রিনের বিচার হওয়া উচিত। গ্রাহাম গ্রিন একজন সুখ্যাতিমান লেখক হিসেবে ইতোপূর্বে যশ কুড়িয়েছিলেন।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

}
© Copyright 2015, All Rights Reserved. | Powered by polol.co.uk | Designed by Creative Workshop